Advertisement

Sikkim Bengal Taxi Problem: দীর্ঘদিনের সিকিম-বাংলা ট্যাক্সি সমস্যা সমাধানের পথে? সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবিতে আশার আলো

Sikkim Bengal Taxi Problem: সম্প্রতি সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে আন্তঃরাজ্য পরিবহণ চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা হয়। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সিকিম নিবন্ধিত ট্যাক্সির জন্য কাউন্টারসিগনেচার পারমিটের সংখ্যা ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার করার অনুমোদন দিয়েছেন।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকাারীসিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকাারী
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 03 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:41 PM IST

Sikkim Bengal Taxi Problem: সিকিমের বাণিজ্য, পর্যটন এবং যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ বহু বছর ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিলিগুড়ি সিকিমের প্রবেশদ্বার হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার সিকিম নিবন্ধিত ট্যাক্সি পশ্চিমবঙ্গে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বড় সমস্যার নাম ছিল কাউন্টারসিগনেচার পারমিটের সীমাবদ্ধতা। নির্দিষ্ট সংখ্যক পারমিট থাকায় বহু ট্যাক্সি পশ্চিমবঙ্গে বৈধভাবে চলাচলের অনুমতি পেত না। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ত, পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হত এবং ট্যাক্সি চালকদের আয়ও কমে যেত। দীর্ঘদিন ধরে সিকিম সরকার এবং ট্যাক্সি সংগঠনগুলি এই পারমিটের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। কলকাতার নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। বৈঠকের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দুই রাজ্যের স্বার্থ জড়িত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শিলিগুড়ির এসএনটি কমপ্লেক্সে সুস্বাস্থ্য ভবন সিকিম নির্মাণের প্রস্তাব। এই ভবন তৈরি হলে চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গে আসা সিকিমের বাসিন্দারা বড় সুবিধা পাবেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের গুরুত্ব স্বীকার করে অনুমোদন দেন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় অনুমতি জারির নির্দেশ দেন। এই দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী।

সিকিমের গাড়ি বিনা বাধায় শিলিগুড়ি সহ এ রাজ্যের সর্বত্র ঘুরতে পারে। কিন্তু এরাজ্যের গাড়ি সিকিমের নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গার বাইরে যেতে পারে না। যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব সমতলের পরিবহণ ব্যবসায়ী ও চালকরা। এমনকি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছেও সমতলের চালকদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে একাধিকবার। এমন কিছু বিষয়কে সামনে রেখেই নতুন করে দুই রাজ্যের মধ্যে পরিবহণ চুক্তির দাবি উঠেছে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও রেসিপ্রোকাল এগ্রিমেন্ট হয়নি। নতুন চুক্তির কথা বৃহস্পতিবার বলেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

এদিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দুই রাজ্যের পরিবহণ চুক্তি, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, তিস্তায় ড্রেজিং, শিলিগুড়িতে সিকিমের স্বাস্থ্য ভবন নির্মাণ সহ কয়েকটি বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।’ সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রেসিপ্রোকাল এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে তিন হাজারের পরিবর্তে সিকিমের ছয় হাজার ট্যাক্সি প্রতিদিন পশ্চিমবঙ্গে যেতে পারবে। তাহলে কি এ রাজ্যেরও ছয় হাজার গাড়ি পাহাড়ে উঠতে পারবে, প্রশ্ন উঠছে। সমতলের এক পরিবহণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে নিজের রাজ্যের কথা বলেছেন। পাহাড়ের যে সংখ্যক গাড়ি সমতলে আসবে, নিশ্চিতভাবে আমাদেরও ওই সংখ্যার গাড়ি পাহাড়ে উঠবে। এতদিন তো তাই হয়েছে।’

কিন্তু সমতলের গাড়ি কি সিকিম পাহাড়ের সর্বত্র যেতে পারবে, এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে। যে কারণে চুক্তির জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন পর্যটন ও পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, সিকিমে পৌঁছে এখানকার চালকদের কী ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়, তা ৩০ জুন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষের বৈঠকে তুলে ধরেছিল বেশ কয়েকটি সংগঠন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘রাজ্য সরকার নিশ্চিতভাবে আমাদের স্বার্থ দেখবে। যদি কোথাও সমস্যা থাকে, তবে আমরা বিষয়টি তুলে ধরব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।’

আলোচনায় উঠে আসে ২০২৩ সালের গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট বন্যার পর তিস্তা নদীর তলদেশে জমে থাকা বিপুল পলির বিষয়টিও। এই পলি জমার ফলে জাতীয় সড়ক ১০ এর একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। দুই রাজ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তিস্তা নদীতে ড্রেজিং করে পলি অপসারণের বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনের মতে এর ফলে ভবিষ্যতে নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে সুবিধা হবে।

বৈঠকের শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা। পরিবহণ। পর্যটন। এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠককে দুই রাজ্যের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement