Advertisement

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্রেকিং, নেপালে তুষারঝড়ে নিখোঁজ ৬ ভারতীয়; জারি উদ্ধারকার্য

প্রবল তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় পুরু বরফ জমে থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় পর্যটকদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনার একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ফোটো : Trip advisorফোটো : Trip advisor
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 01 Nov 2026,
  • अपडेटेड 3:14 PM IST
  • সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় ভারতীয় পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না
  • তাঁদের খোঁজে এবং উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নেপালে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়লেন ৬ ভারতীয় পর্যটক। প্রবল তুষারপাতের জেরে হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। রবিবার প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নেপালের গভীরতম হ্রদ শে-ফোকসুন্ডো (Shey-Phoksundo Lake) থেকে ট্রেকিং করে ফেরার পথে নিখোঁজ হন ওই ছয় পর্যটক। তাঁদের দলে রয়েছেন দু'জন মহিলা এবং চার জন পুরুষ। শেষবার তাঁদের দেখা গিয়েছিল নুমলা পাস ও বাগলা পাস সংলগ্ন এলাকায়। নিখোঁজ পর্যটকদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

ভারতীয় পর্যটকদের দলটি ডোলপো বুদ্ধ গ্রামীণ পুরসভার ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শে-ফোকসুন্ডো হ্রদের দিকে যাচ্ছিল। ফেরার পথে শে-ফোকসুন্ডো গ্রামীণ পুরসভার ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী দুর্গম এলাকায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আবহাওয়ার সতর্কতা উপেক্ষা করেই ট্রেকিং?

স্থানীয় গাইডদের অনুমান, প্রবল তুষারপাতের কারণে পাহাড়ি গিরিপথে আটকে পড়ে থাকতে পারেন পর্যটকরা। তাঁদের আশঙ্কা, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে উঠেছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, তুষারপাতের কারণে পাহাড়ি গিরিপথ পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটকদের আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কতা সত্ত্বেও তাঁরা যাত্রা চালিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। ফেরার পথেই বরফের মধ্যে আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডোলপা জেলার চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার জুনু হামাল জানিয়েছেন, ধো থেকে ফোকসুন্ডো হ্রদের দিকে ফেরার সময় পর্যটকরা আটকে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের সতর্ক করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, উদ্ধারকাজে সমস্যা

শে-ফোকসুন্ডো গ্রামীণ পুরসভার চেয়ারম্যান ধাওয়া সামদুক গুরুং জানিয়েছেন, ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী পাহাড়ি গিরিপথে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ফলে নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান বা তাঁরা কেমন রয়েছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

Advertisement

ডোলপা জেলার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অনিল রাজ গিরি জানিয়েছেন, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছয় ভারতীয় পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের খোঁজে এবং উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রবল তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় পুরু বরফ জমে থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় পর্যটকদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনার একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে।

আপার ডোলপোয় রয়েছেন ২৪৪ জন পর্যটক

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আপার ডোলপো এলাকায় মোট ২৪৪ জন পর্যটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৯ জন নেপালের নাগরিক, ৪৪ জন সার্কভুক্ত দেশের বাসিন্দা এবং ৫১ জন অন্যান্য বিদেশি দেশের নাগরিক।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েক বছরে শে-ফোকসুন্ডো হ্রদ এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৮২/৮৩ অর্থবর্ষের প্রথম ১১ মাসে ফোকসুন্ডো হ্রদ দেখতে গিয়েছিলেন মোট ৪,৮৮২ জন পর্যটক।

Read more!
Advertisement
Advertisement