
তেলঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলায় এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। ধর্ষণ ও পকসো মামলার অভিযুক্ত এক ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এক রাতে পরপর ছয়জনকে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই শিশু সন্তান, অভিযোগকারী ১৭ বছরের এক কিশোরী, কিশোরীর মা এবং ঠাকুমা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে প্রথমে নিজের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী এবং চার ও এক বছর বয়সি দুই ছেলেকে খুন করেন অভিযুক্ত। এরপর তিনি সোজা চলে যান সেই ১৭ বছরের কিশোরীর বাড়িতে, যার অভিযোগের ভিত্তিতেই গত মে মাসে তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল।
অভিযোগ, কিশোরীকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা ও ঠাকুমাকেও খুন করা হয়। তবে কিশোরীর বিশেষভাবে সক্ষম দিদিকে আক্রমণ করা হয়নি।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজের বাবাকে ফোন করে সবকিছু জানিয়ে দেয় বলে দাবি পুলিশের। এরপরই সে মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ছয়টি খুনের পর অভিযুক্ত আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিল। তবে এখনও পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ মেলেনি। অভিযুক্তকে ধরতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালে। তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান অল্প বয়সেই মারা যায়। পরে দুই পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
গত ১৬ মে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭ বছরের কিশোরীকে অনুসরণ করা, কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক আচরণগত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে একাধিকবার কাউন্সেলিংও করানো হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর জুয়ার নেশাও ছিল বলে পরিবারের দাবি।