
উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার হস্তিনাপুরে সাপের কামড়ে এক স্কুল পরিচালকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। প্রথমে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়েছে যে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, নিহতের স্ত্রী তাঁর প্রেমিক এবং আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে বিষধর সাপ ব্যবহার করে স্বামীকে হত্যা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০ লক্ষ টাকার জীবনবিমার অর্থ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কই ছিল এই খুনের মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভান্ডোরা গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছরের অতুল পানওয়ার ও তাঁর স্ত্রী দামিনী হস্তিনাপুরের রামলীলা ময়দান এলাকায় **কৃষ্ণ কিডস পাবলিক স্কুল** পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে প্রেম করে তাঁদের বিয়ে হয়। গত শুক্রবার সকালে দামিনী দাবি করেন, ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি অতুলকে দ্রুত হস্তিনাপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিষধর সাপও উদ্ধার হয়। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
মোবাইলের কল রেকর্ডেই ফাঁস ষড়যন্ত্র
তদন্তে দামিনীর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশ। তাতেই স্কুলের চালক তুষার ওরফে নিকির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মেলে। জিজ্ঞাসাবাদে তুষার স্বীকার করে, দামিনীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং দু'জনে মিলে অতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার আগের রাতে অতুলের দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার পর তুষার, সোনু ও উদয় নামে দুই সহযোগীর সাহায্যে একটি বিষধর সাপ ঘরে এনে কম্বলের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সাপের কামড়েই অতুলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
২০ লক্ষ টাকার বিমা ছিল মূল টার্গেট
তদন্তে আরও জানা যায়, অতুলের নামে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার জীবনবিমা ছিল। পুলিশের দাবি, বিমার টাকা পাওয়ার পর সহযোগী সোনু ও উদয়কে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়াও তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ দিন আগে তুষার একটি এরটিগা গাড়ি দিয়ে অতুলকে ধাক্কা মেরে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে সেই সময় অতুল হেলমেট পরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
সাপের আচরণেই বাড়ে পুলিশের সন্দেহ
মিরাটের এসএসপি অবিনাশ পান্ডে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, সাপের কামড়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সাপের অবস্থান পুলিশের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। সেই কারণেই প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন তুষারের মোবাইল ফোনে একটি বাক্সের মধ্যে রাখা সাপের ছবিও উদ্ধার হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, দুই সাপুড়ের কাছ থেকে ওই সাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
প্রেম, বিমার টাকা এবং খুনের পরিকল্পনা
পুলিশের দাবি, তুষার জেরায় জানিয়েছে, দামিনী স্বামীকে সরিয়ে বিমার টাকা পেতে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনীকে বিয়ে করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সাপটিকেও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপরের সমস্ত তথ্য মিরাট পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে প্রকাশিত। মামলার বিচারাধীন অবস্থায় অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।