Advertisement

Sonam Wangchuk: অনশনের ১৯ দিন, সোনমের ওজন প্রায় ৯ কেজি কম, অবস্থা সঙ্কটজনক, আশঙ্কায় ডাক্তাররা

বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ১৯তম দিন। আরও শরীর ভাঙল সোনম ওয়াংচুকের। কমল ওজন, বাড়ল ইউরিক অ্যাসিড। ডাক্তাররা তাঁকে নিয়ে আশঙ্কিত। জানুন অ্যাক্টিভিস্টের হেলথ আপডেট।

সোনম ওয়াংচুক সোনম ওয়াংচুক
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 16 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:28 AM IST
  • সোনমের অনশনের ১৯তম দিন
  • কমল ওজন, বাড়ল ইউরিক অ্যাসিড
  • ডাক্তাররা তাঁকে নিয়ে আশঙ্কিত

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ১৯তম দিন। বুধবার গভীর রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ৫৯ বছরের ওয়াংচুক বলেন, 'আমি খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই, তবে খুব খারাপও নেই।'

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রকাশিত সর্বশেষ মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, ওয়াংচুক অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন আরও ৪০০ গ্রাম কমে ৫৭.১৫ কেজি হয়েছে। অনশন শুরুর পর থেকে মোট ৯ কেজিরও বেশি ওজন কমেছে তাঁর।

এদিন চিকিৎসক ডা. সতীশ লাম্বা বলেন, 'ওঁর মোট ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমেছে। ক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। যা পেশির ক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরের ধাপে প্রভাব পড়তে পারে নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও। আমরা ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ পর্যায়ে আছি।'

চিকিৎসকদের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৬১ mmHg, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ mg/dL এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৭ শতাংশ। তিনি সচেতন এবং মানসিকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে ওয়াংচুক আবেদন করেন, তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ না করে বরং আগামী ২০ জুলাই 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে যোগ দিতে। তিনি বলেন, 'আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। বরং ২০ জুলাই শান্তিপূর্ণ সংসদ অভিযানে আমার সঙ্গে যোগ দিন।'

যন্তর মন্তরে শুধু ওয়াংচুক নন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও অনশনে সামিল হয়েছেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর নেতা নেহা, মণীশ ও আমিনের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে। সংগঠনের দাবি, অনশনের জেরে নেহার ৫.৮৫ কেজি, মণীশের ৮.২ কেজি এবং আমিনের ৮.৩ কেজি ওজন কমেছে। তিন জনেরই রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গিয়েছে।

Advertisement

এ ছাড়াও, JNU SU-র যুগ্ম সম্পাদক দানিশ, JNU-এর বারাক হস্টেলের সভাপতি হৃষিকেশ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা দীপক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছে AISA।

এদিকে, আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর প্রকাশ্যে ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই অনশন দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে এবং এবার ছাত্রদের স্বার্থে সংসদের ভিতরে লড়াই চালানো উচিত।

এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, শিবসেনা (UBT)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আবেদন জানান। অভিনেত্রী জিনাত আমন, শাবানা আজমি কেন্দ্রকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিং ভাগেলা এবং অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে জোর করে খাবার দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে মামলাটি উঠেছে। তাঁর জীবন অমূল্য, ফলত কেন্দ্রকে নিয়মিত হেলথ চেক আপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে সোমবার ১ হাজার ৮০০-রও বেশি শিল্পী, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজকর্মী একটি খোলা চিঠিতে আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন করেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অরুন্ধতী রায়, জ্যঁ দ্রেজ, জয়তী ঘোষ, নিবেদিতা মেনন ও অনুরাধা চেনয়।

উল্লেখ্য, ১৯ জুন থেকে যন্তর মন্তরে এই আন্দোলন শুরু করে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন Cockroach Janta Party (CJP)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে NEET পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস-সহ একাধিক অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে CJP আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের পাশাপাশি এক দিনের গণ-অনশন কর্মসূচিরও ঘোষণা করেছে। সংগঠনের দাবি, যত দিন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করছেন, তত দিন আন্দোলন চলবে।

অন্যদিকে, বুধবার অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতির পরেও কেন্দ্রীয় সরকার নীরব রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন আলোচনায় বসছেন না এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের থেকে এখনও কেন কোনও জবাবদিহি চাওয়া হচ্ছে না।

সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানাতে সমর্থকদের সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল পিকচার বদলানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের সমর্থনে তাদের মিসড কল প্রচারে ইতিমধ্যেই ১.৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে দাবি সংগঠনের।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement