Advertisement

Sonam Wangchuk: নাড্ডার হাতে অনশন ভঙ্গ 'সেটিং'? ছবি বিতর্কে কেন্দ্রকেই দুষছেন সোনম

'আমি বলেছিলাম, অনশন ভাঙব কিন্তু আমার শর্তে। ওঁরা বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।' এমনটাই জানালেন সোনম ওয়াংচুক। এই প্রথম প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের পর মুখ খুললেন এই উদ্ভাবক। তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের হাত স্যুপ খেয়ে অনশন ভঙ্গ করা নিয়ে যা সমালোচনা হয়েছিল, তারও উত্তর দিলেন সোনম। বললেন, 'চেয়েছিলাম রাহুল গান্ধীর হাত থেকে খেয়ে অনশন ভাঙতে, সাড়া মেলেনি।'

সোনম ওয়াংচুক সোনম ওয়াংচুক
Aajtak Bangla
  • লাদাখ ,
  • 06 Aug 2026,
  • अपडेटेड 8:56 AM IST
  • 'আমি বলেছিলাম, অনশন ভাঙব কিন্তু আমার শর্তে'
  • সামালোচনা নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন সোনম ওয়াংচুক
  • কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাঁর বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন বলে উল্লেখ

তাঁর আমরণ অনশনের জেরেই ককরোচ জনতা পার্টির NEET প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন অন্য মাত্রা পেয়েছিল। সেই সোনম ওয়াংচুককে যখন দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সাদা কাপড়ে আড়াল করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, গর্জ উঠেছিল সারা দেশ। আবার তিনিই যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে স্যুপ থেকে অনশন প্রত্যাহার করেছিলেন, তখন সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিল। সেই অনশন ভঙ্গের নেপথ্য কাহিনি নিয়ে এবার সবটা জানালেন সোনম ওয়াংচুক। 

২৬ দিনের অনশন ভাঙার সময় তোলা ছবি প্রকাশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ তুললেন এই পরিবেশবিদ তথা শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী। বুধবার ইন্ডিয়া টুডে-র কনসাল্টিং এডিটর রাজদীপ সরদেসাইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক দাবি করেন, তাঁর অনশন ভাঙার পরের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ না করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে স্পষ্ট সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙা হয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি সব রাজনৈতিক নেতার উপরই আস্থা হারিয়েছেন। 

ওয়াংচুকের দাবি, ২৬ দিনের অনশন শেষে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় মন্ত্রীদের নিজস্ব ফটোগ্রাফারও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিরোধী শিবিরের নেতা এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের না জানানো পর্যন্ত কোনও ছবি প্রকাশ্যে আনা হবে না। 

সোনম বলেন, 'তাঁরা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁরা ছবি প্রকাশ করবেন না। কিন্তু তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন।' লাদাখে কোনও আন্দোলনকারীর দাবি মেনে নেওয়ার পর সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরা তাঁকে জুস বা স্যুপ খাইয়ে অনশন ভাঙান, এটাই প্রচলিত রীতি। তবে তিনি চাননি, সেই ঘটনাকে শুধুমাত্র শাসক দলের অনুষ্ঠানের মতো তুলে ধরা হোক। তিনি বলেন, 'আমি বলেছিলাম বিরোধী দলের সদস্যরা এবং ছাত্রনেতারাও থাকুন। চেয়েছিলাম, এটা যেন যৌথ ভাবে আয়োজিত হয়।' তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা মধ্যরাতের পরে পৌঁছনোর কারণে তিনি একটি বিকল্প প্রস্তাব দেন। সোনম বলেন, 'আমি বলেছিলাম, অনশন ভাঙব কিন্তু খবর প্রকাশ হবে আমার শর্তে। সকলের সঙ্গে আমার ছবি প্রকাশ করতে হবে। যাতে মনে হয় এটি যৌথ উদ্যোগ। সকলে তাতে সম্মতও হয়েছিলেন। IB শীর্ষ আধিকারিকদেরও এই সমঝোতার সাক্ষী রাখা হয়েছিল। সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা না বলা পর্যন্ত কোনও ছবি সংবাদমাধ্যমে না দেওয়ার শর্ত দিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভাঙা হয়। একজন IB অফিসার এসে জানান, সব ছবি সংবাদমাধ্যমে দেখাচ্ছে।'

Advertisement

তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা করে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে সোনম ওয়াংচুক বলেন, 'আমি চাইলে অনেক আগেই সেই চুক্তি করতে পারতাম। ২৬ দিন অনশন করার প্রয়োজন ছিল না। বলতে পারতাম, আমাকে শিক্ষামন্ত্রী করে দিন। অনেক সুযোগ ছিল। আমি তা করিনি। সব নেতাদের উপর আমার বিশ্বাস চলে গিয়েছে।'

ওয়াংচুক আরও জানান, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর অনশন ভাঙান। কিন্তু সে বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, 'আসলে আমরা ভেবেছিলাম বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর হাত দিয়েই আমার অনশন ভাঙানো হবে। গীতাঞ্জলি সেই বিষয়েই কাজ করছিল। তিনি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ছিলেন না। বরং চেষ্টা করছিলেন, রাহুল গান্ধী যেন আমার অনশন ভাঙান। কিন্তু কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।'

তিনি আরও জানান, তাঁর লক্ষ্য কখনও কোনও মন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করা ছিল না। বরং পরীক্ষা ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। সোনমের কথায়, 'সোনা যেমন নানা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে খাঁটি প্রমাণিত হয়। আমিও সবকিছুকে সেভাবেই দেখি। আমার কোনও অনুশোচনা নেই।'

 

Read more!
Advertisement
Advertisement