Advertisement

CJP-র বিশাল আন্দোলনের মধ্যেই ছাত্র-নেতাদের বার্তা সোনমের, অনশন ভাঙবেন?

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনরত ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য প্রশংসা করেন।

অনশন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা সোনমের অনশন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা সোনমের
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 20 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:03 PM IST
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয় এবং লাঠিচার্জ করা হয়
  • পরে পুলিশ যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয়

NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চলা আন্দোলন নিয়ে অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সোমবার 'ককরোচ জনতা পার্টি'র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লি। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে ওই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। তারইমধ্যে সোনম জানান, আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে অথবা সাংসদরা দিল্লির হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলে  তিনি আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন।

এই নিয়ে স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সোশ্যাল মিডিয়ায় সোনমের হাতে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র ব্যানারে আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানান। 

চিঠিতে ওয়াংচুক লিখেছেন, 'আজ আমার অনশনের ২৩তম দিন। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত যুবকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি- যতদিন না ছাত্রনেতাদের সংসদ ভবনে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অথবা আমাকে হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে, ততদিন আমি অনশন চালিয়ে যাব।' 

তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনরত ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য প্রশংসা করেন।

ওয়াংচুক সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, 'আজ বা আগামীকাল ছাত্রদের সংসদের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিলেই এই সমস্যার সমাধানের পথ খুলতে পারে।' 

সোনমের লেখা চিঠি

যন্তর মন্তরের মঞ্চ সরাল পুলিশ, আন্দোলন চলছেই 

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ অভিমুখে মিছিল করার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের পথে আটকে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয় এবং লাঠিচার্জ করা হয়। পরে পুলিশ যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয়। অনশনের জন্য ব্যবহৃত মঞ্চ, গদি, কার্পেট-সহ অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা পরে আবার যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেন। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে লাউডস্পিকার লাগানো একটি গাড়ি থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। এক আন্দোলনকারী দাবি করেন, তাঁদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানানো হয়।

Advertisement

হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের

এদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট সোমবার সফদরজং হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য-রিপোর্ট ও প্যাথলজি রিপোর্ট তলব করেছে। আদালত জানিয়েছে, তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সফদরজং হাসপাতালকে ওয়াংচুকের সর্বশেষ চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি AIIMS-এর চিকিৎসক এবং যিনি আগে তাঁর চিকিৎসা করছিলেন, তাঁদেরও শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। গীতাঞ্জলি আংমোকেও একটি বেসরকারি পরীক্ষাগারে করানো রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

গীতাঞ্জলি আংমো একক বিচারপতির সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে সফদরজং হাসপাতালে ওয়াংচুকের চিকিৎসায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল। তাঁর দাবি, গ্রেফতার না হয়েও ওয়াংচুক কার্যত সরকারি হাসপাতালে আটকে রয়েছেন। 

রবিবার একক বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা যথাযথ ছিল এবং চিকিৎসকদের চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে তাঁর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

গীতাঞ্জলিকে মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিল পুলিশ

সোমবারের বিক্ষোভে গীতাঞ্জলি আংমোর চুল টেনে ধরা ও তাঁকে মারধর করা হয়েছে- সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ ওঠে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। কোনও ব্যক্তির ওপর লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগেরও কোনও ভিত্তি নেই।

Read more!
Advertisement
Advertisement