
এক কাপ কফির আড্ডায় কত কিছুই না ঘটে যেতে পারে। কখনও কখনও কফির আড্ডাতেই ঘটে পূর্বরাগ। এমনই বহু প্রেমকাহিনির সাক্ষী কলকাতার কফি হাউস থেকে কেমব্রিজের ছোট্ট গ্রিক রেস্তরাঁ। এখানেই আচমকা দেখা হয়েছিল দুজনের। সেই সাক্ষাৎই পরবর্তী সময়ে বদলে দিয়েছিল সনিয়া গান্ধীর জীবন। কয়েক দশক পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পূর্বরাগের স্মৃতিচারণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী।
সনিয়া গান্ধী ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমের দুনিয়ায় পা রেখেছেন। প্রকাশিত হতে চলেছে তাঁর বই 'বিলংগিং: আ জার্নি অফ লভ' (Belonging: A Journey of Love)। সেই বইয়ের প্রচারের জন্য এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানেই কেমব্রিজের ওই রেস্তরাঁ এবং রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করেছেন সনিয়া। তিনি লিখেছেন,'রাজীব আর আমি ভালবাসা, হাসি আর স্মৃতিতে ভরা একটি জগৎ তৈরি করেছিলাম। ১০ নভেম্বর সেই জগৎ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব'।
ভিডিওয় সনিয়া জানিয়েছেন, কেমব্রিজে পড়াশোনা করার সময় ইংল্যান্ডের খাবার তাঁর বিশেষ পছন্দ হত না। বিশেষ করে ইতালীয় খাবার খেতে চাইতেন। তখন ইংল্যান্ডে রেস্তরাঁর সংখ্যাও ছিল তুলনায় কম। তাই নিজের পছন্দসই খাবার পাওয়া যায়, এমন একটি জায়গার খোঁজ করছিলেন। সেই খোঁজ তাঁকে পৌঁছে দেয় গ্রিক রেস্তরাঁ ভার্সিটিতে। সেখানে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পড়ুয়ারা আসতেন। আর সেই রেস্তরাঁতেই এক বন্ধুর মাধ্যমে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে আলাপ।
রাজীবের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে তিনি বলেন,‘প্রথম যখন ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, এই মানুষটার সঙ্গেই আমি থাকতে চাই। পরে অবশ্য জানতে পেরেছিলাম, ওর অনুভূতিও একই রকম ছিল'।
রাজীবের সুদর্শন চেহারার পাশাপাশি তাঁর ভদ্র ও নম্র স্বভাবও সনিয়াকে মুগ্ধ করেছিল। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। পার্টি হোক বা একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, নানা উপলক্ষে সময় কাটাতে শুরু করেন তাঁরা। আর সেই বন্ধুত্বই একসময় পরিণত হয় প্রেমে। সনিয়ার কথায়,'ওকে দেখতে খুব শান্ত ও কোমল স্বভাবের মানুষ বলে মনে হত। অবশ্যই ও খুব সুদর্শন ছিল। কিন্তু ওর সেই নম্র স্বভাব প্রথম থেকেই ছিল। এই বিষয়টাই আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছিল, মনে দাগ কেটেছিল'।
১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন সনিয়া ও রাজীব। এর বহু বছর পরে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজীব গান্ধী। ১৯৯১ সালের মে মাসে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আততায়ীর হাতে নিহত হন তিনি।