
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ক্রমেই বাড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা। সমুদ্রের জল উষ্ণ হওয়ার এই অস্বাভাবিক প্রবণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। সেই প্রভাব থেকে বাদ যাবে না ভারতও। এবার প্রশ্ন হল, এবার বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলায় সেপ্টেম্বরে মাসে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল বটে। কিন্তু জুলাই, অগাস্টে বৃষ্টি হলেও তা কম। এবার শীতে কি প্রভাব ফেলবে এল নিনো? তাপমাত্রা কি বাড়বে?
আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, ২২ অক্টোবর নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এল নিনোর পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলটির তাপমাত্রার উপর বিশেষ নজর রাখেন। ২২ অক্টোবরের এই তাপমাত্রা এমন এক নজির গড়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। এল নিনোর প্রভাব ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। আশঙ্কা আগামী বছরেও এই জলবায়ুগত পরিস্থিতির প্রভাব বজায় থাকতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। ডিসেম্বর নাগাদ এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনোর সম্ভাবনা।
ভারতে এল নিনোর এফেক্ট
ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনোর শক্তিবৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মূলত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে। ভারতের মৌসম ভবন বলছে, চলতি বছর দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অক্টোবর মাসের পূর্বাভাসেও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে অবশ্য গোটা অঞ্চলে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এল নিনো একাই ভারতের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে না। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস, ২০২৭ সালের গোড়া পর্যন্ত শক্তিশালী থাকতে পারে এল নিনো। তাই আগামী কয়েক মাসে এর প্রভাব কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তা বুঝতে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন আবহবিদরা।
বাংলায় এল নিনোর এফেক্ট
বাংলার জন্য স্বস্তির খবর। এ রাজ্যে এল নিনোর খুব একটা প্রভাব ফেলে না বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। তাঁদের মতে, বাংলার কাছেই বঙ্গোপসাগর রয়েছে। সেখানে উচ্চচাপ থাকে। ফলে এল নিনোর এফেক্ট এখানে পড়ে না। সুতরাং শীতে কোনও প্রভাবই ফেলবে না এল নিনো। তবে উত্তর ভারতের সঙ্গে ক্ষেত্রে তেমনটা বলা যায় না। আবার এটাও ঠিক, উত্তর ভারতে খালি এল নিনোই প্রভাব ফেলে না, পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও রয়েছে।
বাড়ছে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিবাহী মেঘের চলাচলে পরিবর্তন আসে। প্রভাব পড়ে সমুদ্র থেকে বহু দূরের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াতেও।
এবারের এল নিনো শক্তিশালী। প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার গড় জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। অগাস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের রেকর্ডও ছাপিয়ে যেতে পারে। এই পরিসংখ্যান সমুদ্রের প্রকৃত তাপমাত্রা বোঝায় না। দীর্ঘমেয়াদি গড় তাপমাত্রার তুলনায় সমুদ্র কতটা বেশি উষ্ণ, তার হিসাব করা হয়।