Advertisement

Defence News: শত্রুদের রাডারে ধরাই পড়বে না! কেন এই রুশ যুদ্ধবিমানে নজর ভারতের?

Su-57E for India: অবসর শুধু মানুষই নেয় না। যুদ্ধবিমানেরও বয়স হয়। আর পাঁচটি যন্ত্রের মতো তারও অবসরের সময় নির্দিষ্ট। সেই নিয়ম মেনেই ভারতের বহু পুরনো যুদ্ধবিমান ধীরে ধীরে অবসর নিচ্ছে। অন্য দিকে চিন ও পাকিস্তানের হাতে বাড়ছে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা।

 Su-57E স্টেলথ যুদ্ধবিমান। Su-57E স্টেলথ যুদ্ধবিমান।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 12 Sep 2026,
  • अपडेटेड 3:34 PM IST
  • ভারতের বহু পুরনো যুদ্ধবিমান ধীরে ধীরে অবসর নিচ্ছে।
  • চিন ও পাকিস্তানের হাতে বাড়ছে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা।
  • রাশিয়ার Su-57E স্টেলথ ফাইটার নিয়ে নতুন করে আলোচনায় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

Su-57E for India: অবসর শুধু মানুষই নেয় না। যুদ্ধবিমানেরও বয়স হয়। আর পাঁচটি যন্ত্রের মতো তারও অবসরের সময় নির্দিষ্ট। সেই নিয়ম মেনেই ভারতের বহু পুরনো যুদ্ধবিমান ধীরে ধীরে অবসর নিচ্ছে। অন্য দিকে চিন ও পাকিস্তানের হাতে বাড়ছে স্টেলথ যুদ্ধবিমানের ক্ষমতা। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে এখনও কোনও ফিফথ জেনারেশনের স্টেলথ ফাইটার নেই। তাই রাশিয়ার Su-57E স্টেলথ ফাইটার নিয়ে নতুন করে আলোচনায় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকেও এই যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু বিমান বিক্রি নয়। রাশিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, ভারতে যৌথ উৎপাদন এবং বিমানের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ভারতীয় অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে পারে বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।

তবে প্রশ্ন হল, ভারতের Su-57E কেন প্রয়োজন? এই যুদ্ধবিমান কি সত্যিই বায়ুসেনার শক্তিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে?

কেন এমন যুদ্ধবিমান দরকার?
ভারতীয় বায়ুসেনায় বর্তমানে অনুমোদিত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রনের সংখ্যা ৪২। কিন্তু বাস্তবে স্কোয়াড্রনের সংখ্যা তার থেকে অনেক কম। পুরনো বিমান অবসর নেওয়ার ফলে চাপ আরও বাড়ছে।

অন্য দিকে চিন দ্রুত নিজের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। চিনের J-20 ইতিমধ্যেই তাদের বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। পাকিস্তানও চিনের কাছ থেকে স্টেলথ ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

অর্থাৎ, ভবিষ্যতে ভারতের সামনে একসঙ্গে দুই দিকের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান না থাকা একটি বড় ঘাটতি।

ভারতের নিজস্ব AMCA বা Advanced Medium Combat Aircraft তৈরির কাজ চলছে। এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেটি পরিষেবায় আসতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে তার আগে একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে Su-57E নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

Su-57E-তে স্পেশাল কী আছে?
Su-57E হল রাশিয়ার তৈরি ফিফথ জেনারেশনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। স্টেলথ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হল শত্রুর রাডারে বিমানটিকে শনাক্ত করা কঠিন।

Advertisement

এই বিমানে রয়েছে উন্নত সেন্সর, সেন্সর ফিউশন এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা। রয়েছে থ্রাস্ট ভেক্টরিং প্রযুক্তিও। ফলে আকাশযুদ্ধে এটি দ্রুত ম্যানুভার করতে পারে।

Su-57E শুধু আকাশে অন্য যুদ্ধবিমানের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নয়। স্থল লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাতে পারে। অর্থাৎ একই বিমান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব।

রাশিয়া আরও দাবি করে, তাদের এই যুদ্ধবিমান বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পেয়েছে।

চিন-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কতটা কাজে আসতে পারে?
স্টেলথ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ফলে শত্রুর আকাশসীমার কাছাকাছি গিয়ে অভিযান চালানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুদ্ধে শুধু একটি বিমান কত দ্রুত উড়তে পারে, তা নয়। সেন্সর, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কত ভাল ভাবে তথ্য আদানপ্রদান করতে পারে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হাতে রাফাল, Su-30MKI এবং তেজসের মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান রয়েছে। কিন্তু এগুলির কোনওটিই Su-57E-এর মতো ৫ম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান নয়।

তাই সীমিত সংখ্যায় হলেও স্টেলথ ফাইটার বায়ুসেনায় এলে একটি নতুন ক্ষমতা যোগ হতে পারে।

কতগুলি Su-57E প্রয়োজন হতে পারে?
কতগুলি বিমান কেনা হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দুই থেকে চারটি স্কোয়াড্রনের কথা বলা হয়েছে। একটি স্কোয়াড্রনে সাধারণত প্রায় ১৮টি যুদ্ধবিমান ধরা হয়।

সেই হিসাবে শুরুতে প্রায় ৩৬টি বিমান কেনার পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পরে ভারতে যৌথ ভাবে আরও বিমান তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ছোট সংখ্যায় বিমান দিয়ে শুরু করার একটি সুবিধা রয়েছে। ভারতীয় পাইলট এবং প্রযুক্তিবিদেরা ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভিজ্ঞতা পাবেন। স্টেলথ প্রযুক্তি এবং উন্নত সেন্সর ব্যবস্থার সঙ্গেও পরিচিত হওয়া যাবে।

AMCA তৈরিতেও কি সাহায্য করবে?
এখানেই Su-57E প্রস্তাবের অন্যতম বড় আকর্ষণ। রাশিয়া যদি সত্যিই প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উৎপাদনের সুযোগ দেয়, তা হলে ভারতীয় শিল্পের জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

স্টেলথ প্রযুক্তি, অ্যাভিয়োনিক্স, ইঞ্জিন এবং অস্ত্র সংযুক্তির মতো ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে। ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানকে যুক্ত করার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভারতের নিজস্ব AMCA প্রকল্পে কাজে লাগানো সম্ভব।

তবে ঝুঁকিও রয়েছে
Su-57E কেনার সিদ্ধান্ত একেবারে সহজ নয়। এর দাম অনেক বেশি হতে পারে। রাশিয়ার উপর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার কারণে যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল AMCA। বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পিছনে বেশি অর্থ খরচ হলে ভারতের নিজস্ব ৫ম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পে চাপ পড়তে পারে।

তাই Su-57E-কে স্থায়ী সমাধান না করে AMCA আসা পর্যন্ত একটি সেতু হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে মত রয়েছে। সীমিত সংখ্যায় যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করা যেতে পারে। পাশাপাশি AMCA তৈরির কাজও দ্রুত চালিয়ে যেতে হবে। তবে এখনও কিছু ফাইনাল হয়নি। শেষ পর্যন্ত Su-57E কেনা হবে কি না, তা নির্ভর করবে দাম, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভারতের নিজস্ব স্ট্র্যাটেজির উপর।   

Read more!
Advertisement
Advertisement