
Sugar Price Before Festivals 2026: সামনেই উৎসবের মরসুম। তার আগে চিনির বাজার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের। বেশি দিন ধরে চিনি মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হল শিল্প সংস্থাগুলিকে। এতদিন পর্যন্ত কোনও সংস্থা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজনের সমান চিনি মজুত রাখার অনুমতি ছিল। নতুন নিয়মে সেই সীমা বাড়িয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে খাদ্য দফতর।
এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের মরসুমে মিষ্টি, বিস্কুট, পানীয় এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তৈরির জন্য চিনি জোগাড় করা শিল্প সংস্থাগুলির পক্ষে কিছুটা সহজ হবে। তবে মজুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।
কারা ৩০ দিনের চিনি মজুত করতে পারবেন?
এই নিয়ম মূলত বড় শিল্প সংস্থাগুলির জন্য। যে সব পাইকারি গ্রাহক প্রতি মাসে ১০ টনের বেশি চিনি উৎপাদন, ব্যবহার বা অন্য শিল্পক্ষেত্রে কাজে লাগান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।
তবে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত করতে হলে সেই অতিরিক্ত চিনি অবশ্যই নির্দিষ্ট পথে আমদানি করা হতে হবে। অর্থাৎ, ট্যারিফ রেট কোটা বা TRQ এবং অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম বা AAS-এর মাধ্যমে আমদানি করা চিনি দিয়েই অতিরিক্ত মজুতের অনুমতি মিলবে।
খোলা বাজার থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই থাকবে। সেই চিনি সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজনের সমান মজুত করা যাবে।
১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি
দেশের বাজারে চিনির জোগান ঠিক রাখতে TRQ-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি AAS-এর অধীনে রফতানির জন্য কেনা চিনির একটি অংশ দেশের বাজারে বিক্রির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, উৎসবের সময়ে চিনির চাহিদা বাড়তে পারে। সেই সময় শিল্প সংস্থাগুলির প্রয়োজন মেটাতে অতিরিক্ত মজুতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য মূলত আমদানি করা চিনি ব্যবহার করতে হবে। ফলে দেশের বাজারে উৎপাদিত চিনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলেই মনে করছে খাদ্য দফতর।
প্রতি শুক্রবার স্টকের হিসাব দিতে হবে
চিনির মজুতের উপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্র। নতুন নিয়মে বড় পাইকারি গ্রাহকদের প্রতি শুক্রবার তাঁদের কাছে থাকা চিনির পরিমাণ জানাতে হবে।
এই তথ্য অনলাইনে খাদ্য মন্ত্রকের পোর্টালে জমা দিতে হবে। পোর্টাল: foodstock.dfpd.gov.in। এর মাধ্যমে দেশে কত চিনি মজুত রয়েছে, কোথায় কতটা রয়েছে এবং বাজারে জোগানের পরিস্থিতি কী; তার উপর নজর রাখতে পারবে সরকার।
চিনির দাম কি কমতে পারে?
অগাস্টে খুচরো বাজারে চিনির দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৬৫ টাকা কেজিতে পৌঁছেছিল। এখন তা কমে প্রায় ৫৮.৫০ টাকা কেজি হয়েছে। অর্থাৎ খুচরো দামে কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।
মিলের দাম কমার তুলনায় খুচরো বাজারে দাম কমার হার এখনও অনেকটাই কম। তাই উৎসবের আগে চিনির দাম আরও কমানোর জন্য গোটা সাপ্লাই চেনেই নজর দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।