
Monsoon India: এ বছর ভারতে দুর্বল হতে পারে বর্ষা। নেপথ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘সুপার এল নিনো’র সম্ভাবনা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে খরা, জলসংকট এবং কৃষিক্ষেত্রে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, দক্ষিণ ভারতের কিছু উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
১৩ এপ্রিল প্রকাশিত আইএমডির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (LPA) ৯২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ এ বছরের বর্ষা ‘বেলো নর্মাল’ বা স্বাভাবিকের নীচে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী জুন-সেপ্টেম্বর মরসুমে ভারতের গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ৮৭০ মিমি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার জেরেই জুন বা জুলাইয়ের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে। জলবায়ু বিজ্ঞানী ডঃ মাধবন নায়ারের দাবি, ১৯৯৭ বা ২০১৫ সালের মতো ভয়াবহ এল নিনো পরিস্থিতি এ বারও দেখা যেতে পারে।
এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি অঞ্চলের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়েই আবহাওয়ার ছন্দ বদলে যায়। ভারতের ক্ষেত্রে এল নিনো সাধারণত মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। ফলে বর্ষার বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উত্তর, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ এ বার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে অগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনী, গোয়ালিয়র, চম্বল, জব্বলপুর, রেওয়া, শাহডোল, সাগর এবং নর্মদাপুরম এলাকাতেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
মহারাষ্ট্র, গুজরাত, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্নাটকের খরাপ্রবণ এলাকাগুলিও চাপে পড়তে পারে। কারণ ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিজমি এখনও বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হলে সরাসরি তার প্রভাব পড়বে খরিফ ফসল উৎপাদনে।
তবে সব জায়গায় একই ছবি নয়। তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ে অতিবৃষ্টি এবং জলমগ্ন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। ২০১৫ সালের সুপার এল নিনোর সময় চেন্নাইয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল শহরে।
অন্য দিকে, দিল্লি-এনসিআর-সহ উত্তর ভারতের যে সব এলাকা ইতিমধ্যেই তীব্র গরমে নাজেহাল, সেখানে স্বস্তির বৃষ্টি আরও কমে যেতে পারে। ফলে গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২৩ সালের এল নিনো পরিস্থিতিতেও ভারতে অগস্ট মাসে ৩৬ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মহারাষ্ট্রের সাতারা, নাসিক, রায়গড়, মধ্যপ্রদেশের পশ্চিম নিমাড়, ওড়িশার বলাঙ্গির এবং ছত্তীসগঢ়ের কোরবা জেলা।
তবে আবহাওয়াবিদেরা সামান্য আশার কথাও শোনাচ্ছেন। তাঁদের মতে, মৌসুমের শেষের দিকে পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD) পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশের জল উষ্ণ হলে সাধারণত ভারতে ভাল বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে এল নিনোর কিছুটা প্রভাব কমতে পারে।
এখন দেশের নজর আইএমডির পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন আপডেট প্রকাশ করতে পারে আবহাওয়া দফতর। তখনই আরও স্পষ্ট হবে, এ বছরের এল নিনো ভারতের জন্য কতটা বড় বিপদ ডেকে আনতে চলেছে।