
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক আসলে কার? এই নিয়ে দুই পক্ষকেই আরও ১০ দিন সময় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রসঙ্গত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত শিবিরের মধ্যে বিবাদ চলছে। এই নিয়ে আদালতেও মামলা গড়িয়েছে। কে আসল তৃণমূল তা প্রমাণ করার জন্য সময় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এবার সেই সীমা আরও বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করতে দুই শিবিরই নথিপত্র প্রস্তুত করেছে। কিন্তু সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সড়কপথে দিল্লিতে হলফনামা নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের ট্রাকে হামলা হয়েছে। নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনার নেপথ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী কালীঘাট শিবিরের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। ঋতব্রতের দাবি, কালীঘাট শিবিরের হলফনামা চার্টার্ড ফ্লাইটে করে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু তাঁর শিবিরের আর্থিক সঙ্গতি নেই। তাই সড়কপথে হলফনামা পাঠানো হয়েছিল। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ সেই ট্রাকে হামলা হয়।
১০দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট
এদিন প্রতীক-যুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আরও সময় পেল ঋতব্রত-তৃণমূল । গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে দলীয় পরিচয় ও প্রতীকের দাবিতে নিজেদের অবস্থানের সমর্থনে নথি এবং হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য আরও ১০দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, হলফনামা পেশের ১০ দিন পরে পাল্টা হলফনামা দিতে পারে মমতা-তৃণমূল।
কে পাবে তৃণমূলের প্রতীক?
প্রসঙ্গত, আজ ছিল হলফনামা দেওয়ার শেষ দিন । হলফনামা দিতে সুপ্রিম কোর্টে আরও ২ সপ্তাহ সময় চায় ঋতব্রত-গোষ্ঠী । ঋতব্রত গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল গোষ্ঠী। শুনানিতে তাদের পক্ষে সওয়াল করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঋতব্রত গোষ্ঠীকে যদি অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদেরও পাল্টা বক্তব্য পেশ করার জন্য সময় দিতে হবে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ঋতব্রত গোষ্ঠীকে নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ঋতব্রত গোষ্ঠী হলফনামা জমা দেওয়ার পরের ১০ দিনের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল গোষ্ঠী।
মোট ২০ দিনের সময়
গত শুনানিতে কালীঘাট এবং ঋতব্রত তৃণমূল, দুপক্ষকেই নথি এবং হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ, সোমবার ছিল সেই নথি জমা দেওয়ার ‘ডেডলাইন’। কিন্তু এদিন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস অর্থাৎ ঋতব্রত তৃণমূল কোনও নথি জমা দিতে পারেনি। নতুন করে আদালতের কাছে সময় চান তাঁদের আইনজীবী। সেই আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। এবং নথি জমা দিতে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়। যার পালটা হলফনামা জমা দিতে পারবে কালীঘাট তৃণমূলও। সব মিলিয়ে দুই পক্ষকেই ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
উল্লেখ্য, বঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে খান-খান হয়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেসে ফাটলের পর গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে অস্থায়ী সমাধান হিসেবে নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছিল। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ফুটবলার প্রতীক ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ছিল খাম। কিন্তু তা অস্থায়ী। দলের আদি প্রতীক অর্থাৎ ঘাসের উপর জোড়াফুল নিয়ে টানাটানি জারি রয়েছে এখনও। মামলাও হয় সুপ্রিম কোর্টেও। তার ফয়সালা করতে দুপক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। এদিন মামলার শুনানিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের আইনজীবী কোর্টে আবেদন করে জানান, এক মাসের মধ্যে যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। কিন্তু নথি জমা দিতে আরও দু’সপ্তাহ সময় চান আইনজীবী। এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি, দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যায়নি। ফলে নথি জমা দিতে সময় দেওয়া হোক। যদিও এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি তা খারিজ করে দিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নথি জমা দিতে ঋতব্রত তৃণমূল ১০ দিন সময় পাবে। প্রতিপক্ষের হলফনামা খতিয়ে দেখে জবাব দেওয়ার জন্য আরও দশ দিন সময় পাবে কালীঘাট শিবির।