
Supreme Court on Unpaid Traffic Challans: রাস্তায় গাড়ি, বাইক চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালান কাটে। আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই চালান অনলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু চালান কাটা হলেই যে সবাই টাকা জমা দেন, তা নয়। দিনের পর দিন ফেলে রেখে দেন।
এই বকেয়া ট্রাফিক চালান আদায় নিয়েই এবার অভিনব পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা বলেন, শুধু ই-চালান পাঠালেই হবে না। বকেয়া টাকা কীভাবে বাস্তবে আদায় করা যায়, তার উপায় খুঁজতে হবে।
বিচারপতির পরামর্শ, কেউ ট্রাফিক চালান না দিলে সেটি তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ বিল না দিলে কানেকশান কেটে দেওয়ার ভয় থাকে। তাই তখন লোকে পুরো অ্যামাউন্ট দিতে বাধ্য থাকবে। এমন কিছু করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেন বিচারপতি।
তবে এটি এখনও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ নয়। শুনানির সময় আদালতের তরফে দেওয়া একটি প্রস্তাব হিসাবেই তিনি বলেছেন।
কত টাকার চালান বকেয়া?
আদালতে দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ই-চালান বকেয়া রয়েছে। মোট বকেয়া ই-চালানের অঙ্ক প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে আদায় হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
এর পরেই বাকি টাকা আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, পুলিশ হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ ই-চালান কাটতে পারে। কিন্তু শুধু চালান কাটাই শেষ কথা নয়। আসল বিষয় হল, সেই জরিমানার টাকা বাস্তবে আদায় হচ্ছে কি না।
শুধু বিদ্যুৎ বিল নয়, আরও একাধিক প্রস্তাব
বকেয়া চালান আদায়ের জন্য শুনানিতে আরও কয়েকটি পদ্ধতির কথা উঠে আসে।
যে গাড়ির চালান বকেয়া রয়েছে, সেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা RC রিনিউয়াল বন্ধ করার বিষয়টি ভাবা যেতে পারে বলে আদালতে আলোচনা হয়।
এমন গাড়ির ডুপ্লিকেট RC দেওয়াও বন্ধ করা যেতে পারে। গাড়ির মালিকানা বদলের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়।
এ ছাড়া বকেয়া চালান না মেটানো পর্যন্ত গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেওয়ার বিষয়টিও ভেবে দেখতে বলা হয়। পরিবহণ দফতরের Parivahan পোর্টালে এমন গাড়িকে চিহ্নিত বা ব্ল্যাকলিস্ট করা যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ।
অর্থাৎ, এখনই এমন কোনও নিয়ম চালু হয়েছে বলে ধরে নেবেন না। আপাতত এটি স্রেফ পরামর্শ হিসেবেই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই পর্যবেক্ষণ যে বেশ অভিনব, তা বলাই বাহুল্য।