
পথকুকুর মামলায় নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রইল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে যেই নির্দেশ দিয়েছিল, তা পরিবর্তনে অস্বীকার করল।
সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন পাবলিক ইনস্টিটিউশন থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে দিতে হবে। আর নিজের সেই পুরনো অবস্থানেই আজ অনড় থাকল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত পথকুকুর প্রেমী ও এনজিওগুলোর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, জনবহুল স্থান থেকে পথকুকুর সরানোর নির্দেশে কোনও পরিবর্তন করবে না। ৭ নভেম্বরের দেওয়া আদেশই কার্যকর থাকবে।
সংবাদ সংস্থার ANI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পথকুকুরের কামড়ের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর শহরে মাত্র তিন মাসে ১৪৮৩টি কুকুরের কামড়ের ঘটনা সামনে এসেছে। উদয়পুরে ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ১৭০০-রও বেশি। কুকুরের কামড়ে শিশুও গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তামিলনাড়ুতে ২০২৬ সালে প্রায় ২.৪ লক্ষ কুকুর কামড়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই ৭১,০০০টি ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের।
এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কুকুরের আক্রমণের সমস্যা এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক স্পেসেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকী এয়ারপোর্টেও ঘটছে এই ধরনের ঘটনা। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় ৩১টি কুকুর কামড়ের ঘটনা ঘটেছে। এই এয়ারপোর্টের টার্মিনালের ভিতরেও পথকুকরদের দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।
আর সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পথকুকুর কামড়ের ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেছে। আদালতে পর্যবেক্ষণ, পথকুকুরের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছেছে। শুধু পরিসংখ্যানগত নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুতর বিষয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। এই অবহেলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ছোট শিশুদের কুকুরে কামড়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকী বিদেশি পর্যটকরাও বিপদে পড়েছেন। সরকারি পদক্ষেপের অভাবে শিশু ও প্রবীণদের তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে একা ফেলে রাখা যায় না। নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।