
Tamil Nadu blast: তামিলনাড়ুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বাজি কারখানায় আগুন লেগে মৃত্যু ১৩ জনের(প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত)। গুরুতর জখম আরও ৬ জন। রবিবার তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাট্টানারপট্টি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, একটি বাজি তৈরির কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইউনিটে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে কারখানা। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন। পরে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গুরুতর জখম অবস্থায় ৬ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর কারখানার বেশিরভাগটাই ভেঙে পড়েছে। আশপাশে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। দমকল ও উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (M. K. Stalin) প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিরুধুনগর জেলা বাজি শিল্পের জন্য পরিচিত। কিন্তু এই শিল্পের কারণেই এই জেলায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটে। গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের ১৩ এপ্রিলও সাত্তুরের কাছে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়।
২০২৪ সালেও এই জেলায় একাধিক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে বছর ফেব্রুয়ারিতে এক বিস্ফোরণে ১০ জন প্রাণ হারান। জুন মাসে অন্য একটি কারখানায় বিস্ফোরণে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
পরপর এই ধরনের দুর্ঘটনায় বাজি শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় বারবার এমন বিপর্যয় ঘটছে।