Advertisement

TCS Nashik Controversy: নাসিক TCS-এর অফিসে ছদ্মবেশে পুলিশ, কীভাবে গোপন অপারেশনে ধর্মান্তর চক্রের পর্দাফাঁস?

মহারাষ্ট্রের নাসিকে TCS-এর মধ্যে ধর্মান্তর, ধর্মীয় বিপ্লবে প্রেমের ফাঁদে, জোড় করে কলমা পড়ানোর পর্দাফাঁস। অভিনব কায়দায় এই চক্রের হদিশ পায় পুলিশ। টিসিএসের অফিসে ছদ্মবেশে মহিলা কন্সটেবলদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গোপন অপারেশন চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এটি নিছক হয়রানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

টিসিএস নাসিকে ধর্মান্তর বিতর্কটিসিএস নাসিকে ধর্মান্তর বিতর্ক
Aajtak Bangla
  • মুম্বই,
  • 15 Apr 2026,
  • अपडेटेड 4:32 PM IST

মহারাষ্ট্রের নাসিকে TCS-এর মধ্যে ধর্মান্তর, ধর্মীয় বিপ্লবে প্রেমের ফাঁদে, জোড় করে কলমা পড়ানোর পর্দাফাঁস। অভিনব কায়দায় এই চক্রের হদিশ পায় পুলিশ। টিসিএসের অফিসে ছদ্মবেশে মহিলা কন্সটেবলদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গোপন অপারেশন চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এটি নিছক হয়রানির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একজন রাজনৈতিক কর্মী নাসিক পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, কোম্পানিতে কর্মরত এক হিন্দু মহিলা রমজান মাসে রোজা রাখছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা একটি গোপন অভিযান শুরু করে। এই অভিযানটি ধীরে ধীরে একটি বিস্ফোরক রহস্য উন্মোচন করে। 

পুলিশ সাফাইকর্মীর ছদ্মবেশে মহিলা কনস্টেবলদের কোম্পানির ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। এরা ক্যাম্পাসের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কিছু টিম লিডার তাদের পদের অপব্যবহার করছিলেন। তদন্তে জানা যায়, কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছিল। তাদের মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল।

বিদেশি সংযোগ
তদন্ত চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে মালয়েশিয়ায় সন্দেহভাজন ধর্মপ্রচারক ইরমানের নামও প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠে, ভিডিও কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এটি এই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে, এই মামলাটি শুধু স্থানীয় নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন এই বিদেশি সংযোগও খতিয়ে দেখছে।

বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) অনুসারে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই সংখ্যা ছিল নয়, কিন্তু তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আটজন নারী ও একজন পুরুষকে নিয়ে নয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং ধর্মীয় জবরদস্তির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

FIR অনুসারে, অভিযুক্তরা নারী কর্মচারীদের হয়রানি করত এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করত। ভুক্তভোগীদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই ঘটনাগুলো ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলেছিল। এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ধারা ছিল। 

প্রথম এফআইআর-এ দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তারা হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। দ্বিতীয় এফআইআর-এ রাজা মেমন এবং শাহরুখ কোরেশীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার অভিযোগ সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তৃতীয় ও চতুর্থ এফআইআর-এও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শাফি শেখ ও তৌসিফ আখতারের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের পিছু নেওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। পঞ্চম এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছে, কর্মীদের নামাজ পড়তে ও মাংস খেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেও বাধ্য করা হয়েছিল।

ষষ্ঠ ও সপ্তম এফআইআর-এও অভিযুক্তদের দ্বারা হয়রানি, পিছু ধাওয়া এবং অশ্লীল মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় একাধিক ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করছিল। অষ্টম ও নবম এফআইআর-এও ক্রমাগত হয়রানি, বিয়ের জন্য চাপ এবং মানসিক চাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, অভিযুক্তরা তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাত এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত। এতে অনেক কর্মচারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এই মামলায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, শফি শেখ, রাজা মেমন, শাহরুখ কোরেশি, আসিফ আনসারি, অশ্বিনী চেইনানি এবং নিদা খান। পুলিশ অশ্বিনী চেইনানিকে আটক করেছে, তবে নিদা খান এখনও পলাতক। তাকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান চলছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে যে, কোম্পানির সার্ভার থেকে পাঠানো ৭৮টি ইমেইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, আশ্বানি চেইনানি এবং তৌসিফ আত্তারের মধ্যে রেকর্ড করা ৩৮টি কথোপকথন পাওয়া গেছে। এতে সন্দেহ জাগে কোম্পানির ভিতরে একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় ছিল, যা গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই পুরো মামলায় নিদা খানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ভুক্তভোগীদের ওপর ধর্মীয় চাপ সৃষ্টি করেছিলেন এবং অভিযুক্তদের সমর্থন করেছিলেন। পুলিশের মতে, তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অংশ ছিলেন, যেখানে কর্মচারীদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পরিকল্পনা করা হত। অনেক চ্যাট মুছে ফেলা হয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য ফরেন্সিক দল কাজ করছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে এই মামলায় বিদেশি অর্থ দেওয়া, ব্যাঙ্কে লেনদেন, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। মালয়েশিয়ার সংযোগ এবং একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুলিশ এখন পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং পুরো নেটওয়ার্কটিকে উন্মোচন করার দিকে মনোনিবেশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement