
জনগণনার কাজে এ বার বেসরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও নিয়োগ করা হবে। জনগণনা আইন ১৯৯০-এ সংশোধনী আনল কেন্দ্র। যার ফলে শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নন, বেসরকারি স্কুলের টিচারদেরও জনগণনার কাজে লাগানো যাবে।
প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষকরদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ
সংশোধিত নিয়মে এই দায়িত্বে কাদের নিয়োগ করা যেতে পারে, সেই শিক্ষক, আধিকারিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের শ্রেণিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এক গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ এই সংশোধনী আনেন। আগে নিয়ম ছিল, জনগণনার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও গণনার কাজ পরিচালনা করতে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন, শিক্ষক, ক্লার্ক, যে কোনও আধিকারিক বা অন্য কোনও ব্যক্তি’কে দায়িত্বে নিয়োগ করতে পারবে।
কী বলা হয়েছে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে?
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি, স্থানীয় প্রশাসন, অনুদানপ্রাপ্ত বা অনুদান না পাওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সোশ্যাইটি বা ট্রাস্টের আওতায় থাকা যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককেই জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ দফতর ও প্রতিষ্ঠানের ক্লার্ক বা আধিকারিকদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন নিজেদের বিবেচনায় উপযুক্ত বলে মনে করলে অন্য যে কোনও ব্যক্তিকেও দায়িত্বে নিয়োগ করতে পারবে।
২০২৭ সালের জনগণনা ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এই নিয়ে অষ্টমতম। দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকা তৈরি এবং আবাসন সংক্রান্ত জনগণনা করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা। ২০২১ সালেই জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। দেশের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম জনগণনা হতে চলেছে। এর জন্য ১১,৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
কবে কোন রাজ্যে জনগণনা?
আগামী বছর গোয়া, উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই কারণে এই রাজ্যগুলিতে এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলি বাদে বাকি এলাকায় জনসংখ্যা গণনার কাজ ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মণিপুরে ২০২৭ সালের জনগণনার বাড়ির তালিকা তৈরির কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকাগুলিতে জনগণনার সময়সূচি দেশের বাকি অংশের তুলনায় আলাদা। এই অঞ্চলগুলিতে বাড়ির তালিকা তৈরি ও আবাসন সংক্রান্ত জনগণনার কাজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বাকি অংশে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।