
আজ সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বলতে উঠে বিজেপির মহিলা সাংসদের সংখ্যা নিয়ে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'বিজেপির লোকসভাতে মোট সাংসদ ২৪০। মহিলার সংখ্যা ৩১। শতাংশের হিসেবে ১২.৯১ শতাংশ। রাজ্যসভায় আপনাদের রয়েছে ১০৬। তাঁদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১৮। শতাংশের হিসেবে ১৬.৯৮। আপনারা তো পার্টিতেই মহিলাদের সম্মান দেন না। এখানে লেকচার দিচ্ছেন।'
এখানেই শেষ না করে তিনি তৃণমূলের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যেই সংখ্যক মহিলা সাংসদ তৃণমূলের রয়েছে, সেটা কারও নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'লোকসভায় আমাদের সংখ্যা ২৯। তার মধ্যে ১১ জনই মহিলা। শতাংশের হিসেবে ৩৯.২৮ শতাংশ। ভারতের কোনও পার্টির এমন রেকর্ড নেই। রাজ্য সভায় আমাদের সংখ্যা ১৩। তার মধ্যে ৬ জন মহিলা। শতাংশের হিসেবে ৪৬.১। আমরা এটা করেছি। চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম।'
তিনি জানান, ৫৪৪ সিটের মধ্যে ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করে দিন। আমরা রাজি আছি। সমর্থন করে দেব।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, 'এতই যদি ইচ্ছে থাকে, তাহলে উত্তরপ্রদেশে ২০২৭-এ ৫০ শতাংশ মহিলা ক্যান্ডিডেট করে দিন। তখন বুঝব।'
এছাড়াও তাঁর দাবি, দেশে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬৫.৭৮ শতাংশ। সব সরকারই মহিলাদের ভোটের উপর নির্ভর করে চলছে। কিন্তু বিজেপি মহিলাদের সম্মান দিচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। সেই সময় কল্যাণের টিপ্পনি, 'শ্রীরামের তো হনুমান টিম ছিল। মোদীজির তো মাঙ্কি টিম রয়েছে।'
এরপর আবার বলতে শুরু করেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, এই সময় হুট করে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। এখন বাংলায় ভোট চলছে। অন্যান্য বিরোধী রাজ্যে ভোট চলছে, তাই এখনওই অধিবেশন বসানো হয়েছে। কিন্তু গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানের ভোটের সময় সংসদ বসবে না। এখন বসানো হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা।
পাশাপাশি তিনি জানান, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরই বাংলায় মহিলা সংরক্ষণ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সময় থেকেই লোকাল বডিতে ৫০ শতাংশ রিজার্ভেশন করা হয়েছে।
এ দিন আবার নতুন করে পার্টির অবস্থান জানালেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, 'ডিমিলিটেশন এনে মহিলা সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। আমরা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করব। কিন্তু ডিলিমিটেশন সাপোর্ট করব না।'