
কলকাতার পার্টি অফিস নিয়ে টালবাহানা চলছে। বাড়ির মালিক মন্টু সাহা তৃণমূল ভবন হিসেবে ভাড়া দিতে অনিচ্ছুক। তার মধ্যেই এবার হাতছাড়া হতে চলেছে তৃণমূলের দিল্লির পার্টি অফিসও! এতদিন দিল্লিতে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাড়িই ছিল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। পার্থ ভৌমিক তাঁর প্রাপ্য সংসদ আবাসন দিয়েছিলেন দলীয় কাজকর্মের জন্য। তবে তিনি ইতিমধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ব্লকের সঙ্গে রয়েছেন বলে খবর। সেক্ষেত্রে কী ভবিষ্যৎ তাঁর বাড়ির পার্টি অফিসের?
জানা যাচ্ছে নিজের জন্য বরাদ্দ সংসদের ওই বাড়ি ফেরত চাইতে পারেন পার্থ ভৌমিক। ফলে দিল্লির কার্যালয়ও হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
উল্লেখ্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর থেকেই পার্থ ভৌমিকের সংসদ আবাসনই হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের সরকারি বাংলো। সেটিকেই অফিস হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেছিল তৃণমূল। অভিষেক নিজেও সাংসদদের নিয়ে এই বাংলোতে বৈঠক করেছেন একাধিকবার। সাংবাদিক বৈঠকও হত সেখান থেকেই।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মঙ্গলবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কীর্তি আজাদ ওই অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেননি। কামরাজ লেনে রয়েছে কল্যাণের বাংলো। বৈঠকটি হয় সেখানে।
তৃণমূলের লোকসভার ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যে বিদ্রোহী হয়ে নতুন ব্লক তৈরি করেছেন। ওই শিবিরের দাবি, ২০ জনের টিমে ব্যারাকপুরের সাংসদও রয়েছেন। ফলে পার্থ ভৌমিক বিদ্রোহী শিবিরের চলে যাওয়ায় রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাংলো তৃণমূলের দিল্লির অফিস হিসেবে থাকবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'পার্থর নামে বাড়ি ছিল। তবে আমি হাউজিং কমিটিতে সদস্য বলে রিকয়েস্ট করে বাড়িটা ওকে করিয়ে দিয়েছিলাম। ওর নাম বাড়িটা ছিলই না। এবার ওর নামে বাড়ি ও যা খুশি করুক। ও মহান নেত্রী শতাব্দী রায় আর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে ওখানে বসে বসে কাজ করুক।'