
পেগাসাস ইস্যুতে তৃতীয় দিনেও উত্তাল হয়ে উঠল সংসদের বাদল অধিবেশন। আজ তৃণমূল সংগ্রেসের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। অবশেষে মধ্যাহ্ণ ভোজের পর ফের অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে রাজ্যসভায় বিবৃতি দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই সময় তাঁর হাত থেকে কাগজ কেড়ে ছিঁড়ে ফেলে দেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। এই ঘটনার জেরে তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বিজেপি সাংসদ হরদীপ সিং পুরীরও। পরে মার্শালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অন্যদিকে, কৃষক বিক্ষোভ ইস্যুতে কংগ্রেসও চাপ সৃষ্টি করতে থাকে সরকার পক্ষের ওপর। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করতে হয় অধ্যক্ষকে।
এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভের জেরে বারবার মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন। অন্যদিকে কৃষক ইস্যুতে সোচ্চার কংগ্রেস। আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থনে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভে নেমে পড়েন কংগ্রেস ও বাম সাংসদরা। যোগ দেন রাহুল গান্ধীও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার অক্সিজেনের অভাবে কারও মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করতেই স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনতে চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছে সিপিআই।
সকাল থেকেই বিক্ষোভ চলতে থাকে লোকসভা ও রাজ্যসভার দুই কক্ষে। তার জেরেই লোকসভার অধিবেশন প্রথমে ১২টা পর্যন্ত এবং পরে দুপুর দুটো পর্যন্ত মুলতুবী হয়ে যায়। দুপুর দু'টোয় অধিবেশন ফের শুরু হলে অধ্যক্ষ বিক্ষোভকারী সদস্যদের নিজেদের আসনে গিয়ে বসে আলোচনায় অংশ নিতে আর্জি জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, বিরোধীরা যে বিষয়েই চাইবে, সেই বিষয়েই আলোচনায় প্রস্তুত সরকার। তিনি বলেন, রাজ্য়সভায় কোভিড নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আপনারা যে বিষয়েই আলোচনা চাইবেন, সরকার সেই বিষয়েই আলোচনা করতে প্রস্তুত। প্রশ্নোত্তর পর্ব প্রত্যেক সদস্যের অধিকার।
যদিও, অধক্ষ্যের সেই আর্জিতে কর্ণপাত করেননি বিক্ষোভে সামিল সাংসদরা। এরপরই পেগাসাস ইস্যুতে অশ্বিনী বৈষ্ণব বক্তব্য রাখতে উঠতে তাঁর হাতের থেকে কাগজ ছিনিয়ে নেন শান্তনু সেন। ছিঁড়ে ফেলেন সেই কাগজ।