
দিল্লিতে NDA-র বৈঠকে আমন্ত্রণ বিদ্রোহী TMC সাংসদদের। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠক। এমনটাই সূত্রের খবর। পাশাপাশি বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা ছিল তাঁদের। যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ব্য়স্ততার কারণে মঙ্গলবার তাঁর দিল্লি যাওয়া হবে না। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছিলেন, দুপুর ১টায় মিটিং হওয়ার কথা। শতাব্দী জানিয়েছিলেন, 'আমাদের একাধিক সাংসদের মনে বেশ কিছু জরুরি বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশাও রয়েছে। সেগুলি সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, তাঁর কাছে নিজেদের কিছু মতামত ও পর্যবেক্ষণও পেশ করতে পারেন।'
উল্লেখ্য, দলত্যাগী সাংসদদের এনসিপিআই-এ 'মার্জার'-এর আবেদনটি এখনও লোকসভার স্পিকারের কাছে বিচারাধীন। তবে সেই অবস্থাতেই তাদের মিটিংয়ে ডেকে নিল এনডিএ। তার উপর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠকের জল্পনা। গোটা বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তারপরই হঠাৎ শোনা যায় এই NCPI-এর নাম।
স্পিকারের সিদ্ধান্ত ও এনডিএ-র সমীকরণ, যা বোঝা জরুরি
তৃণমূলের এই বিদ্রোহী MP-রা স্পিকারের কাছে দরখাস্ত করেছিলেন। তাঁদের দাবি, যেন এনসিপিআই-এর সঙ্গে তাঁদের মার্জারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, স্পিকারের দফতর থেকে খুব শীঘ্রই এই আবেদনের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সংসদের চলতি অধিবেশনে সর্বদলীয় বৈঠকেও এই রাজনৈতিক পরিবর্তন বেশ স্পষ্টই দেখা গিয়েছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর আমন্ত্রণে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার ওই বৈঠকে যোগ দেন। এর প্রতিবাদে বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা সাময়িক 'ওয়াকআউট' করেন। যদিও পরে তাঁরা আবার মিটিংয়ে ফিরে আসেন।
তবে স্পিকার যদি এই প্রস্তাবিত মার্জারে সম্মতি দেন, তাহলে তা জাতীয় স্তরে তৃণমূলের সংগঠন পুরোপুরি ভেঙে দেবে। সেক্ষেত্রে এই সাংসদরা স্থায়ীভাবে এনডিএ জোটের শরিক হিসেবে গণ্য হবেন। পুরো সমীকরণটাই বদলে যাবে।
বিধানসভা ও লোকসভায় সংকট
কেবল দিল্লি বা লোকসভাতেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন।
লোকসভায় যদি স্পিকার এই ২০ জন সাংসদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মার্জারকে আইনি বৈধতা দেন, সেক্ষেত্রে সংসদীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংখ্যার সমীকরণে বড়সড় বদল ঘটতে পারে। সংসদের অধিবেশন তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে বলে মত বিশ্লেষকদের।