Advertisement

November 1 Congress rally: কংগ্রেস প্রতিবাদে নামলে ১২ হাজার কোটির ক্ষতি হবে, সনিয়ার কাছে আর্জি ব্যবসায়ীদের

৬ নভেম্বর ধনতেরস। আর ৮ নভেম্বর দীপাবলি। তার আগে ১ নভেম্বর হল ব্যবসার প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন ১০ লক্ষ মানুষ এবং ১৫-২০ হাজার গাড়ি যদি মধ্য দিল্লিতে ঢোকে, তাহলে ২০টি বাজারে প্রতিদিনের ১০-১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কার্যত থমকে যেতে পারে।

দিল্লির ব্যবসায়ীরা চিঠি লিখলেন সনিয়া গান্ধীর কাছে (ছবি: পিটিআই)দিল্লির ব্যবসায়ীরা চিঠি লিখলেন সনিয়া গান্ধীর কাছে (ছবি: পিটিআই)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 30 Oct 2026,
  • अपडेटेड 10:06 AM IST
  • ৬ নভেম্বর ধনতেরস
  • ৮ নভেম্বর দীপাবলি
  • ২০টি বাজারে প্রতিদিনের ১০-১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কার্যত থমকে যেতে পারে

আগামী ১ নভেম্বর বিরাট কর্মসূচি রয়েছে কংগ্রেসের। রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ১০ লক্ষ মানুষের মহাসমাবেশের টার্গেট রেখেছে তারা। আর এই সমাবেশ ঘিরে দিল্লির ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছে। তারা সমাবেশের দিন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, দীপাবলির পর অর্থাৎ ১০-১১ নভেম্বরের পরে এই সমাবেশ করা হোক।

CTI-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বলেন, 'আমরা এই সমাবেশের বিরোধিতা করছি না। দীপাবলির ব্যস্ত মরসুমে নিজেদের রুজি-রোজগার বাঁচাতে হাতজোড় করে আবেদন জানাচ্ছি।'

তিনি আরও জানান, ৬ নভেম্বর ধনতেরস। আর ৮ নভেম্বর দীপাবলি। তার আগে ১ নভেম্বর হল ব্যবসার প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন ১০ লক্ষ মানুষ এবং ১৫-২০ হাজার গাড়ি যদি মধ্য দিল্লিতে ঢোকে, তাহলে ২০টি বাজারে প্রতিদিনের ১০-১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কার্যত থমকে যেতে পারে।

সনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে চারটি বড় সমস্যার কথা তুলে ধরেছে CTI। সেগুলি হল-

সমস্যা ১: রামলীলা ময়দানে পার্কিংয়ের জায়গা নেই, ১৫-২০ হাজার গাড়ি কোথায় দাঁড়াবে?

CTI-এর দাবি, রামলীলা ময়দানে ২০০টি বড় বাস রাখার মতো পার্কিংয়ের জায়গা নেই। সেখানে ১০ লক্ষ মানুষকে নিয়ে আসতে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাস, গাড়ি ও টেম্পোর প্রয়োজন হবে। এই বিপুল সংখ্যক গাড়ি জওহরলাল নেহরু মার্গ, বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ, নেতাজি সুভাষ মার্গ, আজমেরি গেট, চাঁদনি চক রোড এবং আশপাশের বাজারগুলির কাছে দাঁড় করানো হতে পারে। এর ফলে মধ্য ও পুরনো দিল্লিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে কার্যত লকডাউনের মতো যানজট তৈরি হবে।

সমস্যা ২: পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ২০টি পাইকারি ও খুচরো বাজার
CTI জানিয়েছে, রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ২০টি ঐতিহাসিক বাজার রয়েছে। এই বাজারগুলির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। এখান থেকে গোটা দেশে পণ্য সরবরাহ করা হয়। বাজারগুলিতে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় বলে দাবি সংগঠনের।

Advertisement

বাজারগুলির মধ্যে রয়েছে চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, জনপথ, ভাগীরথ প্যালেস, খারি বাওলি, কাশ্মীরি গেট, নয়া বাজার, লাজপত রাই মার্কেট, চাওড়ি বাজার, কিনারি বাজার, দারিবা কলান, বল্লিমারান, ফতেপুরি, তিলক বাজার, করোলবাগ, জামা মসজিদ, নবী করিম, গফফর মার্কেট, আজমেরি গেট-পাহাড়গঞ্জ এবং দরিয়াগঞ্জ।

সংগঠনের দাবি, প্রতিদিন নরেলা, বাওয়ানা, ওখলা, মায়াপুরি, মুন্ডকা, উদ্যোগ নগর ও মঙ্গোলপুরী-সহ ৫৬টি শিল্পাঞ্চল থেকে প্রায় ৫ হাজার ট্রাক ও টেম্পো এই বাজারগুলিতে পণ্য নিয়ে আসে। অন্যদিকে, এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ট্রাক পণ্য নিয়ে গুরুগ্রাম, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ, সোনিপত, পানিপত-সহ এনসিআরের ২৫টি শহর এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যায়।

সমস্যা ৩: ৩১ অক্টোবর থেকেই প্রভাব পড়তে পারে
CTI-এর আশঙ্কা, ৩১ অক্টোবর দুপুর থেকেই দিল্লির সীমানায় বাস ও গাড়ি আসতে শুরু করতে পারে। সিংঘু, টিকরি, গাজিপুর ও বদরপুর সীমান্ত দিয়ে যানবাহন ঢুকতে পারে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ এবং জওহরলাল নেহরু মার্গে ব্যারিকেড বসানো হতে পারে।

সংগঠনের দাবি, তাই অনেকেই ৩১ অক্টোবর থেকেই পণ্যবাহী গাড়ি পাঠাতে চাইছেন না। ফলে শুধু ১ নভেম্বর নয়, তার আগের দিন থেকেই সমস্যা শুরু হতে পারে।

সমস্যা ৪: ১০ অক্টোবরের যানজটের উদাহরণ

CTI-এর দাবি, গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে মাত্র ৫-৭ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল। তাতেই প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে মধ্য দিল্লিতে যানজট তৈরি হয়। এবার সেখানে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

সোনিয়া গান্ধীর কাছে CTI-এর দুই দাবি

১. ১ নভেম্বরের সমাবেশ দীপাবলির পরে, অর্থাৎ ১০-১১ নভেম্বরের পর আয়োজন করা হোক। যাতে ধনতেরস ও দীপাবলির ব্যবসায় কোনও বাধা না পড়ে।
২. একান্তই সমাবেশ করতেই হলে রামলীলা ময়দানের বদলে বুরারি ময়দানে আয়োজন করা হোক। CTI-এর দাবি, সেখানে ১৫ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে।

CTI চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বলেন, 'এই ২০টি বাজার শুধু বাজার নয়, দিল্লির প্রাণ। এখানে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। ৬ নভেম্বর ধনতেরস। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত, ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর মধ্য দিল্লিতে লকডাউনের মতো যানজট তৈরি হলে ধনতেরসের পণ্য কীভাবে আসবে, কীভাবেই বা তা সরবরাহ করা হবে?'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছি, কারণ তিনি সবসময় ছোট ব্যবসায়ীদের কথা শুনেছেন। আমাদের আশা, তিনি আমাদের আবেদন শুনবেন এবং সমাবেশ দীপাবলির পরে করার ব্যবস্থা করবেন। রাহুল গান্ধীর কাছেও আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম। তাঁকে তিনটি চিঠি লিখেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি রাজি হননি। এখন সনিয়া গান্ধীর কাছেই আমাদের শেষ ভরসা।'

 

Read more!
Advertisement
Advertisement