
জল্পনার অবসান। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন উদ্ধবের দল ছেড়ে আলাদা গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মর্মে তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-কে চিঠিও দিয়েছেন। সেখানে দাবি, তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
স্পিকারকে চিঠি দেওয়া সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল অষ্টিকার, ওমরাজে নিম্বালকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় দিনা পাটিল। অন্যদিকে, বাকি ৩ জন সাংসদ এখনও উদ্ধব ঠাকরের পাশেই রয়েছেন।
সূত্রের খবর, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ওই ৬ সাংসদ স্পিকারকে চিঠি দিয়ে শিবসেনা-তে যোগ দেওয়ার দাবি জানান। বিদ্রোহী সাংসদরা নান্দেড়, পুনে ও মুম্বই থেকে ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লি পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে একনাথ শিন্ডে শিবসেনার এক শীর্ষ নেতাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে দল ভাঙনের জল্পনার মাঝেই দিল্লিতে সঞ্জয় রাউতের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন অরবিন্দ সাওয়ান্ত, অনিল দেশাই এবং রাজাভাউ ওয়াজে। সেখানে মাত্র তিন সাংসদ উপস্থিত থাকায় দলের ভাঙনের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়।
সঞ্জয় রাউত বলেন, 'সব ৯ জন সাংসদই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে এবং দলের মশাল প্রতীকে জিতে এসেছেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে জেতেননি। কেউ যদি দল ছাড়তে চান, তবে আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে যান। দলবদল করলে আমরা রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করব।'
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালেও প্রথমে গুঞ্জন উড়িয়ে দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছিল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। সেই ভাঙনের জেরেই দু'ভাগ হয়ে যায় দলটি। এদিকে আজকের এই খবর সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রে নতুন করে 'অপারেশন টাইগার' নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও কেউ কেউ এই ঘটনাকে অপারেশন লোটাস বলছেন। বাংলার সাংসদরা যেভাবে তৃণমূলের হাত ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছেন এবং স্পিকারকে চিঠি লিখে পৃথক ব্লক গঠনের দাবি জানিয়েছেন, কার্যত প্রায় একইভাবে উদ্ধবের দলের সাংসদরাও শিন্ডে শিবিরে আসতে চাইছেন।