
গত কয়েকদিন ধরেই E20 নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, সোশ্যাল মিডিয়া- সব জায়গাতেই পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ বলছেন e20 পেট্রোলের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, আবার কারও দাবি এরফলে গাড়ির যন্ত্রাংশে ক্ষতি হচ্ছে। তবে এবার রাস্তা থেকে আলোচনা ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে সংসদেও। এই বিষয় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে কেন্দ্রের তরফে কী জানানো হল?
সরকার জানিয়েছে, ই২০ পেট্রোল ইঞ্জিনের ক্ষতি করে এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। এছাড়াও, পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। সরকারের বক্তব্য ভবিষ্যতে E20-কে আরও একধাপ এগোনো হলেও তা হবে শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, গাড়ি কোম্পানিগুলির সঙ্গে আলোচনা ও সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরেই।
রাজ্যসভায় কেন্দ্রের জবাব
সোমবার রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের লিখিত উত্তরে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, দেশে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল কর্মসূচি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নীতি আয়োগ, অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এআরএআই), সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (এসআইএএম), ইন্ডিয়ান অয়েল, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পেট্রোলিয়াম, তেল বিপণনকারী সংস্থা এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করেছে।
ইঞ্জিন বিকল হওয়া নিয়ে কী বলা হচ্ছে?
সরকার জানিয়েছে, E20 পেট্রোলের কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, ফুয়েল পাম্পের সমস্যা, মরচে পড়া, মাইলেজ কমে যাওয়া, জল দূষণ বা অন্য কোনও বড় ধরনের কারিগরি সমস্যা নিয়ে যানবাহন প্রস্তুতকারী সংস্থা, অটোমোবাইল সংগঠন বা গ্রাহক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট ও বড় আকারের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্থাপিত নানা ধরনের প্রশ্ন বৈজ্ঞানিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। ল্যাব টেস্ট, ফিল্ড ট্রায়াল এবং বাস্তব তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড অনুযায়ী E20 পেট্রোল সম্পূর্ণ নিরাপদ। এমনকি পুরোনো যানবাহনেও এর ব্যবহারে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা যন্ত্রাংশের ক্ষতি লক্ষ্য করা যায়নি।
সরকার জানিয়েছে, গত সাড়ে তিন বছর ধরে দেশের ২০ কোটিরও বেশি দু-চাকার যান এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি E15+ পেট্রোলে চলছে। E19 এবং E20 পেট্রোলও আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও, ইথানলের কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা বড় ধরনের কোনও যান্ত্রিক সমস্যার নিশ্চিত কোনও ঘটনা ঘটেনি। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ধরনের বিষয়ে রাজ্যভিত্তিক অভিযোগের সংখ্যা শূন্য।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দশকে ভারতে ইথানল মেশানোর পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোলে ইথানলের গড় মিশ্রণ ছিল মাত্র ১.৫৩ শতাংশ। ২০২০-২১ সালে পেট্রোলে ইথানল মেশানো বেড়ে হয় ৮.১ শতাংশ, ২০২১-২২ সালে ১০ শতাংশ, ২০২২-২৩ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ সালে ১৪.৬ শতাংশ। এরপর ২০২৪-২৫ সালে তা ১৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এরপর, ২০২৫-২৬ সালের নভেম্বর থেকে জুনের মধ্যে ভারত পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের টার্গেট অর্জন করে, যা সরকার নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ বছর আগেই হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।