
নয়াদিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলোর এলাকায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি এবং সাজসজ্জায় বিপুল টাকা খরচ। তথ্য জানার অধিকার বা RTI-এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি আবাসন মেরামতি ও সংস্কারে খরচ হয়েছে ৯২.৩৫ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে যে খরচ ছিল ২৭.৪৭ কোটি টাকা, তার তুলনায় গত অর্থবর্ষে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি।
PTI-এর করা RTI আবেদনের জবাবে এই তথ্য দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (CPWD)। সরকারি মন্ত্রীদের দিল্লির বাসভবনের মেরামতি, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত এই দফতরের উপরেই।
১২ বছরে খরচ ৫৪৭ কোটি টাকা
RTI-এর জবাব অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাংলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারে মোট ৫৪৭.৬৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
বছর ধরে খরচের হিসাব দেখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট। ২০১৪-১৫ সালে ২৭.৪৭ কোটি টাকা থেকে শুরু করে ২০১৫-১৬ সালে ২৯.৫৭ কোটি এবং ২০১৬-১৭ সালে ৩০.১০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ সালে সেই খরচ কিছুটা কমে যথাক্রমে ২৩.৩৪ কোটি এবং ২৩.৪২ কোটি টাকা হয়।
এর পর থেকেই অবশ্য খরচ বাড়তে শুরু করে। ২০২০-২১ সালে সরকারি মন্ত্রীদের বাসভবন সংস্কারে ব্যয় হয় ৫৩.৮৭ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ সালে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৮৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে খরচ হয় ৭১.৯৮ কোটি টাকা। আর ২০২৫-২৬ সালে সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যায় ব্যয়; ৯২.৩৫ কোটি টাকা।
সরকারি বাংলোয় এত খরচ কেন?
CPWD আধিকারিকদের বক্তব্য, লুটিয়েন্স এলাকার অধিকাংশ সরকারি বাংলোই বহু পুরনো। অনেক বাড়ির বয়স ৮০, ৯০ এমনকি ১০০ বছরও পেরিয়েছে। ফলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
পুরনো বাড়িগুলিতে জল চুঁইয়ে পড়া, উইপোকার উপদ্রব, পুরনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং পাইপলাইনের সমস্যা দেখা যায়। বড় জমির উপর তৈরি এই বাংলোগুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তাই কম নয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনে সাধারণত ফ্যান, LED আলো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামতি, পাইপলাইনের কাজ এবং কয়েক বছর অন্তর মেঝের টাইলস বদলের মতো কাজের প্রয়োজন হয় বলেও জানা গিয়েছে।
৭০-৭২ জন মন্ত্রীর জন্য গড়ে কত খরচ?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সাধারণত প্রায় ৭০ থেকে ৭২ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী থাকেন। সেই হিসাব ধরলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৯২.৩৫ কোটি টাকা খরচের অর্থ, প্রতি মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের পিছনে গড়ে প্রায় ১.২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তবে প্রত্যেকটি বাংলোর জন্য একই পরিমাণ টাকা খরচ হয়নি। বাড়ির অবস্থা, মেরামতির প্রয়োজন এবং কাজের ধরন অনুযায়ী খরচের পরিমাণ আলাদা হয়েছে।
লুটিয়েন্স বাংলোর এলাকার ইতিহাস
দিল্লির এই অভিজাত সরকারি আবাসন এলাকা তৈরি হয়েছিল ১৯১২ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে। ব্রিটিশ আমলে নতুন দিল্লিকে তৎকালীন সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার সময় এই বাংলোগুলি তৈরি করা হয়। স্বাধীনতার পর এগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
মন্ত্রী ছাড়াও সাংসদ, আমলা, বিচারপতি এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অনেকেই এই এলাকার সরকারি বাংলোয় থাকেন।
ইতিহাসবিদ স্বপ্না লিডলের মতে, লুটিয়েন্সের নাম থেকেই এই এলাকার নাম ‘লুটিয়েন্স বাংলোজ় জ়োন’ হলেও দিল্লির সমস্ত ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি বাংলো এডউইন লুটিয়েন্স তৈরি করেননি। ব্রিটিশ আমলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের একাধিক স্থপতি এই বাংলোগুলি নকশা করেছিলেন।
RTI-এর তথ্য অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাধারণ সাংসদদের সরকারি আবাসন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দফতরের সংস্কারে কত টাকা খরচ হয়েছে, সেই তথ্য এই হিসেবের মধ্যে দেওয়া হয়নি।
খবরটি ইংরাজিতে পড়তে Click Here