
জাতীয় রাজনীতিতে একটি প্রাচীন প্রবাদ রয়েছে, দিল্লির মসনদের রাস্তা উত্তরপ্রদেশ হয়েই গিয়েছে! অর্থাত্ উত্তরপ্রদেশ যার দখলে, দিল্লিও কার্যত তারই দখলে। স্বাভাবিক ভাবেই ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে আগামী বছর অর্থাত্ ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন বিজেপি-র কাছে অ্যাসিড টেস্ট। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিয়মিত জেলা পরিদর্শন করছেন, দলের রাজ্য ইন-চার্জ বিনোদ তাওড়ে বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের অবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করছেন।
২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিজেপি। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, বর্তমান বিধায়কদের কাজের মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা চালাচ্ছে দল। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ১২৫টি বিধানসভা আসনে সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেই সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কয়েক জন বর্তমান বিধায়কের টিকিট পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব জয়ের সম্ভাবনায়
বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্যতম লক্ষ্য, এমন প্রার্থীদের চিহ্নিত করা যাঁদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। অর্থাত্ শুধুমাত্র দীর্ঘ দিন বিজেপি দল করছেন বা পুরনো নেতা হলেই টিকিট মিলবে না। পারফর্ম্যান্স দেখে তবেই প্রার্থী করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে বুথ স্তরের সংগঠন, শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের জনপ্রিয়তা, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং এলাকায় সরকার-বিরোধী মনোভাব কতটা রয়েছে, তা-ও মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে।
যেসব বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমান বিধায়কদের নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে সমীক্ষায় উঠে আসবে, সেখানে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে দল। তবে সমীক্ষার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত কত জন বিধায়কের টিকিট বাতিল হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বিজেপি। পূর্বাঞ্চল এবং অবধ অঞ্চলে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
মোদী, শাহ ও নবীনের সফর ঘিরে তৎপরতা
নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে দলীয় সংগঠনকে সক্রিয় করতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ অক্টোবর বারাণসী সফরের কথা রয়েছে। তাঁর কর্মসূচিতে একটি এয়ার শো-তে অংশগ্রহণও থাকতে পারে বলে খবর। এরপর ২৭ অক্টোবর বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের আজমগড়ে ওম প্রকাশ রাজভরের মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
৩০ ও ৩১ অক্টোবর লখনউয়ে বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, নিতিন নবীন এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদেরও বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
নভেম্বর থেকে বুথ স্তরে নজর
বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে বুথ স্তরের সংগঠন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সূত্রের খবর, নভেম্বর থেকে বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্রের সমন্বয়কারী এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সঙ্গে আলোচনা আরও জোরদার করতে পারে দল। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সংগঠনের পরিস্থিতি, কর্মীদের সক্রিয়তা এবং স্থানীয় মানুষের মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।