
ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের একটি তেলবাহী জাহাজে আমেরিকার হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ। বৃহস্পতিবার আমেরিকা এম/টি জলবীর (M/T Jalveer) জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা ২০ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সব দেশের জাহাজের ওপর নিরপেক্ষভাবে অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহণের চেষ্টা করছিল। আমেরিকার নির্দেশ বারবার অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মার্কিন বিমান থেকে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় যাতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে।
চার দিনের মধ্যে তৃতীয় হামলা
গত চার দিনের মধ্যে ভারতীয় নাবিকদের থাকা জাহাজে এটি তৃতীয় হামলা। এর আগে এমটি মারিভেক্স (MT Marivex) এবং এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello)-তেও আমেরিকার বাহিনী আঘাত হানে। সেট্টেবেলোতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ভারত ইতিমধ্যেই এই হামলাগুলির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে।
কেন হামলা?
আমেরিকা এপ্রিল মাস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি কঠোর সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। এই অবরোধের আওতায় ইরানের বন্দর থেকে আসা বা সেখানে যাওয়া যে কোনও দেশের জাহাজকেই তল্লাশি, বাধা বা প্রয়োজনে অচল করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ৯টি জাহাজ অচল করেছে, ১৩৫টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে এবং মানবিক সহায়তা বহনকারী ৪২টি জাহাজকে যেতে দিয়েছে।
ভারতের উদ্বেগ
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ধরনের হামলাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছে। তাদের বক্তব্য,আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে আক্রান্ত জালভির থেকে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ভারতীয় দূতাবাস এবং ওমানের স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজে সাহায্য করেছে।