Advertisement

তেল, রান্নার গ্যাসের দাম কি কমবে? ইরান যুদ্ধ বন্ধে ভারতের লাভ কত

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের যুদ্ধে আপাতত ইতি। দু'পক্ষের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এরফলে ভারত কী কী লাভ পাবে?

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধে সাধারণ ভারতবাসীর কী কী লাভ হবে?ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধে সাধারণ ভারতবাসীর কী কী লাভ হবে?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 16 Jun 2026,
  • अपडेटेड 3:13 PM IST
  • আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ আপাতত বন্ধ।
  • হরমুজ প্রণালী থেকে আমেরিকান নৌসেনার অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
  • এরফলে ভারতীয়রা কীভাবে লাভবান হবেন?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ আপাতত বন্ধ। শান্তি চুক্তিতে সাক্ষর করেছে সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী থেকে আমেরিকান নৌসেনার অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফের হরমুজ প্রণালী চালু করা হয়েছে। এই শান্তি চুক্তির ফলে স্বস্তি এসেছে ভারতেও। ভারতীয়রা এই যুদ্ধ বন্ধের ফলে কী কী লাভ পাবেন? জেনে নেওয়া যাক।

ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হরমুজ প্রণালী। যা অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অপরিশোধিত তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে অনেক দেশে মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ তুলেছে। খোদ মার্কিন মুলুকেই মুদ্রাস্ফীতির হার আকাশচুম্বী।  পাকিস্তান ও ব্রিটেন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, এমনকি ভারতেও জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এমতাবস্থায় শান্তি চুক্তি থেকে ভারত যে যে সুবিধা পাবে, তা দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম সুবিধা: তেল-গ্যাসের ক্ষেত্রে সঙ্কট কমবে

অপরিশোধিত তেলের উপর মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির প্রভাব স্পষ্ট ভাবে নজরে এসেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আকস্মিক বড় পতন ঘটেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, WTI ক্রুডের দাম ৫.৫০ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে নেমে এসেছে। ভারতসহ অন্য আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য ইরান ও হরমুজ হলো বৃহত্তম জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং ভারত তার তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমেই আসে, এমন পরিস্থিতিতে এই চুক্তিটি দেশের তেল-গ্যাস সঙ্কট কমাতে সহায়ক হবে।


দ্বিতীয় সুবিধা: পেট্রোল, ডিজেল ও LPG সস্তা হতে পারে

হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় এবং তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশে এগুলোর আমদানি বাড়বে। ফলে ঘাটতি আর থাকবে না। অপরিশোধিত তেলের সস্তা হওয়ার কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমতে পারে, যা সাধারণ ভারতীয়দের জন্য সস্তিদায়ক হবে। জ্বালানির দাম কমলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কারণ পরিবহন খরচ কমবে এবং খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও হ্রাস পেতে পারে। 

Advertisement

তৃতীয় সুবিধা: শেয়ার বাজারের মনোভাব চাঙ্গা

বৈশ্বিক উত্তেজনা, যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গত ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভারতী শেয়ার বাজারের পারফর্ম মোটেই ভালো নয়। ইজরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা মার্কিন-ইরান সংঘাতের মতো প্রতিটি খবরের প্রভাব ভারতীয় শেয়ার বাজারে দেখা গিয়েছে। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ঘোষণার পর সেনসেক্স-নিফটি রকেটের গতিতে ছুটতে শুরু করে। বিশেষ করে তেলের দামের সঙ্গে জড়িত খাতগুলোর শেয়ারের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা যায়। 

চতুর্থ সুবিধা: টাকার দাম বাড়তে পারে

অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ফলে ভারতীয় মুদ্রা রুপি লাভবান হবে। বর্তমানে রুপির অবস্থা রেকর্ড নীচে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে ৯৫ পার করে ফেলেছে ভারতীয় মুদ্রা। যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার ফলে ভারতীয় টাকা (পড়ুন রুপি)-র দাম বৃদ্ধি পাবে।


 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement