Advertisement

Chamoli Tunnel Collapse: সুড়ঙ্গে ফের ধস, একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু, ধ্বংস্তূপে আরও কতজন আটকে?

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুরে একটি নির্মীয়মাণ হাইড্রো টানেলে হঠাৎ ধস নামে। তারপরই জলের তোড়ে ধসের ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে সেই টানেলে। এই দুর্ঘটনার জেরে ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও আটকে রয়েছেন একজন শ্রমিক।

Aajtak Bangla
  • চামোলি ,
  • 14 Aug 2026,
  • अपडेटेड 8:57 AM IST
  • ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের তদারকি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি উদ্বেগ প্রকাশ
  • করেন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেন।

ফের সুড়ঙ্গ বিপর্যয়। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মায়াপুরে (পিপলকোটি) THDC প্রকল্পের একটি নির্মীয়মাণ হাইড্রো টানেলে হঠাৎ ধস নামে। তারপরই জলের তোড়ে ধসের ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে সেই টানেলে। এই দুর্ঘটনার জেরে ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৪ জন আহত। এই ঘটনায় টানেলের ভিতরে থাকা ২২ জন শ্রমিকের মধ্যে ২১ জনের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একজন শ্রমিক এখনও টানেলের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে। HCC-এর নির্মাণাধীন ওই টানেলে আচমকাই ধস নামে। জলের তোড়ে ঢুকে যায় ধ্বংসবশেষ। সেই সময় ডিউটিতে থাকা শ্রমিকরা টানেলের ভিতরে আটকে পড়েন।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF), ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) সহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকারী টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। টানেলের ভিতর থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং জল বের করে দেওয়ার জন্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে আরও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। অন্য আহতদের গোপেশ্বরে চিকিৎসা চলছে।

উদ্ধারকাজে একাধিক সংস্থা
দুর্ঘটনার পরই তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসাবশেষ ও জল ঢুকে পড়ায় আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে টানেলের ভিতরে পৌঁছতে SDRF-এর উদ্ধারকারীরা অস্থায়ী ড্রাম-বোট ব্যবহার করেন। তবে বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও আটকে একজন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা এখনও চলছে।

চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার বলেন, 'এটি THDC-র একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ধস নেমে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ও জল টানেলের ভিতরে ঢুকে যায়। শিফটে থাকা শ্রমিকরা আটকে পড়েন। সকলকেই বের করে আনা সম্ভব হয়। একজন শ্রমিকের উদ্ধারে NDRF ও SDRF-এর দল এবং সমস্ত উপলব্ধ যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদী।'

Advertisement

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনা, ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (ITBP), NDRF এবং SDRF-এর দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট ইনসিডেন্ট রেসপন্স ফোর্স (DIRF), স্থানীয় পুলিশ এবং সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-এর কর্মীরাও উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন।

ঘটনাস্থরে উদ্ধারকাজের তদারকি মুখ্যমন্ত্রীর
ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে NDRF ও SDRF-এর দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে উদ্ধারকাজের আপডেট নিচ্ছেন।

ধামি জানিয়েছেন, টানেলের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেককে নিরাপদে বের করে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধারকাজে কোনও ধরনের বিলম্ব বা গাফিলতি যাতে না হয়, সেই বিষয়েও আধিকারিকদের সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারকে সম্ভাব্য সমস্ত সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, তিনি ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও এই ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন।

শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন ধামি
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি শুক্রবার সকাল ৯টায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত টানেল এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। এরপর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে গোপেশ্বরে গিয়ে আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করবেন।

এদিকে, ঠিক কী কারণে টানেলের ভিতরে এই ধস নামল এবং জল ঢুকে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement