
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নতুন নজির। এবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে জীবন্ত হার্ট সুরাট থেকে আহমেদাবাদে পৌঁছে দেওয়া হল। শুক্রবার এই হৃৎপিণ্ড সফলভাবে ইউএন মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার-এ এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। পুরো অভিযানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। এই কাজটা করতে ভারতীয় রেল, গুজরাত পুলিশ, আরপিএফ এবং চিকিৎসক দল একযোগে কাজ করে বলে জানা যাচ্ছে।
হৃৎপিণ্ডটি মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ২০৯০১)-এ করে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুরাট থেকে আহমেদাবাদে আনা হয়। এরপর আহমেদেবাদ রেল স্টেশন থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত একটি বিশেষ 'গ্রিন করিডর' তৈরি করা হয়। যাতে কোনও বাধা ছাড়াই দ্রুত হার্ট হাসপাতালে পৌঁছে প্রতিস্থাপনের কাজ সময়মতো শুরু করা যায়।
আহমেদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বেদ প্রকাশ এই ঘটনাকে ভারতীয় রেলের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'ভারতীয় রেল নতুন ইতিহাস গড়েছে। প্রথমবারের মতো ২০৯০১ মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সফলভাবে সুরাট থেকে আহমেদাবাদে জীবন্ত হৃৎপিণ্ড নিয়ে এসেছে।'
ওদিকে আরপিএফ এবং গুজরাত পুলিশ আহমেদাবাদ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত বিশেষ গ্রিন করিডর তৈরি করে। যাতে কোনও যানজটে না ফেঁসেই হৃৎপিণ্ডটি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। আর সেই কারণেই সময়েই হার্টটি হাসপাতালে পৌঁছে যায়। শুরু হয়ে যায় ট্রান্সপ্ল্যান্টের কাজ।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এই কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উচ্চগতির জন্যই সুরাট থেকে আহমদাবাদে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জীবন্ত দাতার হৃদপিণ্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। যার ফলে এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ সফল হয়েছে।'
কীভাবে সম্পন্ন হল অভিযান?