
হাসপাতালে ভর্তি প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা ভারতের প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানী। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুকে সংক্রমণ রয়েছে তাঁর। তাঁকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যতদূর খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের পালমোনারি বিভাগে ভর্তি। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এখন কেমন আছেন?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, আপাতত ৯৮ বছর বয়সী এই নেতার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি
এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও বয়সজনিত সমস্যার কারণে এই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছিল আদবানীকে। কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তার আগে ২০২৪ সালেও একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তাঁর। এছাড়া অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এও চিকিৎসা হয়েছিল।
ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে আরও একবার শরীর খারাপ হয় আদবানীর। এই সময় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। পরে ২৫ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।
মাথায় রাখতে হবে, গত ৭ অক্টোবর দিল্লিতে আডবানীর বাসভবনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। সরকারের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করার উপলক্ষে প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন মোদী।
সেই সাক্ষাতের পর মোদী জানিয়েছিলেন, কয়েক দশক ধরে জনসেবার মাধ্যমে দেশের জীবনে স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন আদবানী। উল্লেখ্য ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। আর আদবানীর সঙ্গে দেখা করার ন'দিনের মাথায় তাঁর হাসপাতালে ভর্তির খবর সামনে এল।
পেয়েছেন সম্মান
২০২৪ সালের মার্চ মাসে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন লালকৃষ্ণ আদবানী। তাঁর দিল্লির বাসভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
আসলে ১৯২৭ সালে করাচিতে জন্ম আদবানীর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভারতে চলে আসেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে বিজেপির উত্থানের পিছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। তিনবার বিজেপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।