
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ আটক করেছে। তাঁরা যন্তর মন্তরে প্রবেশের জন্য একটি গেট টপকেছিলেন, যে স্থানটিকে কর্তৃপক্ষ এখন বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। CJP কর্মী অজিনক্য শিন্ডেকেও অন্যান্য সমর্থকদের সঙ্গে আটক করা হয়।
আটক হওয়ার আগে রাঙ্কা X-এ একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন, যেখানে তাঁকে, সৌরভ দাস এবং অন্যান্য CJP সমর্থকদের একটি গেট টপকে চত্বরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখেন, 'যন্তর মন্তর থেকে হাত সরাও!'
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দলটি বিক্ষোভস্থলের কাছে অবস্থিত জনতা দল (ইউনাইটেড) কার্যালয়ের দিক থেকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে পুলিশ ওই এলাকায় প্রবেশকারী সকলকে আটক করে। দাস X-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় পুলিশ তাদের আটক করার সময় তিনি ও তাঁর সমর্থকরা 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ'এবং 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁর পোস্টে তিনি ঘোষণা করেন, যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং এই প্রবেশকে তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেন।
'যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধার করা হয়েছে! আমরা যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছি এবং এখন আমাদের আটক করা হচ্ছে! কিন্তু এটা আমাদের সকল তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা! আমরা এটা করতে পারি! জ্ঞানু, তুমি পেরেছ ভাই!' দাস লিখেছেন।
দলটি যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করার আগেই সৌরভ দাস তাঁর কিছু সহযোগীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন। দিল্লি পুলিশ তাঁকে পুনরায় হেফাজতে নেয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করতে পারে। তবে, এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এবং এই ধরনের সমাবেশের জন্য তিনটি বিকল্প স্থানের নাম উল্লেখ করার একদিন পরেই এই আটক করা হলো । এই আদেশটি ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিলের একটি পূর্ববর্তী স্থায়ী আদেশকে আংশিকভাবে সংশোধন করে, যে আদেশে যন্তর মন্তরকে একটি প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি বিকল্প স্থানে প্রতিবাদ পরিচালনার জন্য সংশোধিত আদর্শ কার্যপ্রণালী আলাদাভাবে জারি করা হবে।
SIR প্রক্রিয়ায়অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে CJP এবং দিল্লি পুলিশের মধ্যে অচলাবস্থার মধ্যেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে । সোমবার, CJP নেতারা প্রস্তাবিত বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণ এবং অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন ত্যাগ করেন।
CJP-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, দলটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার ইচ্ছার কথা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে এবং পুলিশ সেই খবর গ্রহণ করেছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনও তারিখ জানানো হয়নি এবং বিধিনিষেধের কোনও ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
'আমরা তাদের একটি তারিখ দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি,' সৌরভ দাস বলেন এবং সতর্ক করে দেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশ সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে দলটি একটি মিছিলের ঘোষণা দেবে। সৌরভ দাস আরও অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক দমন অভিযানে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং বাসের ভেতরে বিক্ষোভকারীদের মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ এবং অতিরিক্ত ডিসিপি CJP-র প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলা এড়িয়ে গেছেন। 'ভারত সরকার তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালাচ্ছে,' সৌরভ দাস বলেন এবং যোগ করেন যে দলটি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।