
ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানে নয়া রেকর্ড। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল ‘বিক্রম-১’। ভারতে এটিই প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত রকেট। যেটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস তৈরি করেছে।
শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটায় বিক্রম-১-এর উৎক্ষেপণ করানো হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রকেটের সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপগ্রহকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের পুরো প্রক্রিয়া ইসরোর বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেন। এই মিশনের নাম রাখা হয়েছে'আগমন' ।
এই উৎক্ষেপণ শুধু স্কাইরুটের জন্য নয়, ভারতের পুরো বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্যই বড় মাইলফলক। ২০২০ সালে ভারত সরকার মহাকাশ খাতে বড় সংস্কার আনে। এরপর থেকেই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে রকেট, উপগ্রহ এবং উৎক্ষেপণ পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২২ সালে স্কাইরুট বিক্রম-এস (Vikram-S) নামে একটি সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে সেই মিশনে কোনও উপগ্রহকে কক্ষপথে পাঠানো হয়নি। এবার লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা। বিক্রম-১ একাধিক গ্রাহকের ছোট উপগ্রহকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার লো-আর্থ অরবিটে স্থাপন করবে। এটি তিনটি ডেভেলপমেন্ট মিশনের প্রথম। এরপর রকেটটিকে নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
অরবিটাল রকেট কেন বিশেষ?
সাব-অরবিটাল এবং অরবিটাল রকেটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাব-অরবিটাল রকেট মহাকাশে গিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। কিন্তু অরবিটাল রকেট উপগ্রহকে এমন গতিবেগ দেয়, যাতে সেটি পৃথিবীর কক্ষপথে দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরতে পারে। বিক্রম-১ সফল হলে প্রথমবার কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার রকেট এই কৃতিত্ব অর্জন করবে।
কেমন বিক্রম-১ রকেট?
বিক্রম-১ একটি চার ধাপের রকেট। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। চতুর্থ ধাপে রয়েছে তরল জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন, যা প্রয়োজনে পুনরায় চালু করা যায়। এর ফলে উপগ্রহকে আরও নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়। রকেটটি বিশেষভাবে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
স্কাইরুটের যাত্রা
২০১৮ সালে ইসরোর প্রাক্তন প্রকৌশলী পবন কুমার চন্দানা এবং নাগা ভরত ডাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর সংস্থাটি অরবিটাল রকেট তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই যাত্রারই সবচেয়ে বড় মাইলফলক বিক্রম-১।
এই মিশন সফল হলে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে দেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক বাণিজ্যিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। তাই এই উৎক্ষেপণের দিকে গোটা দেশেরই নজর ছিল। এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।