
SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? এবার নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য Form 6 জমা দিতে পারবেন। এমনকী, আগে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত থাকলেও এই ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না। শুধু তাই নয়, এর জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপও করা হবে না। মঙ্গলবার এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।
দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন। সেখানে জানানো হয়েছে, আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাঁদের নাম SIR-এর পর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নেই, তাঁদের অনেকেই Form 6 জমা দিতে দ্বিধা করছেন। কারণ, এই ফর্মে আবেদনকারীকে ঘোষণা করতে হয়, ভোটার তালিকায় প্রথমবারের জন্য তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হচ্ছে। ফলে আগে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও নতুন করে Form 6 জমা দিলে তা মিথ্যা ঘোষণা হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এমনকী, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও ভয় তৈরি হয়েছে।
এই আশঙ্কা দূর করতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, Form 6-এ থাকা এই ঘোষণা ২০২২ সালের অগাস্ট মাস থেকেই কার্যকর রয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য Form 6 জমা দিতে পারবেন। কমিশনের বক্তব্য, যাঁদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের নতুন করে ভোটার হিসেবেই নাম নথিভুক্ত করতে হবে। আগে কোনও ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল কি না, তা এক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়।
কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, 'Form 6 জমা দেওয়ার উদ্দেশ্য হল, SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকায় নিজের নাম নথিভুক্ত করা। আগে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত ছিল, শুধুমাত্র এই কারণে Form 6 জমা দেওয়াকে ভুল বলা যায় না।'
Form 6 জমা দেওয়া নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) জানানো হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩১ নম্বর ধারায় কোনও ভোটারের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র এই কারণে আর কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না যে, আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন বা তারপরে Form 6 জমা দিয়েছেন।
তবে এই ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম অন্য কোনও লোকসভা বা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় আগে থেকে নথিভুক্ত থাকা চলবে না। পাশাপাশি, আবেদনপত্রে দেওয়া ঘোষণা অন্যান্য ক্ষেত্রে আইন মেনে হতে হবে। অর্থাৎ, আগে ভোটার তালিকায় নাম ছিল বলে নতুন করে Form 6 জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি জটিলতায় পড়তে হবে না ভোটারদের।
নিজেদের অবস্থানের সমর্থনে দিল্লি হাইকোর্টের একটি মামলার কথাও উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। Nilotpal Dutta and Others মামলায় আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, আগে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও Form 6 জমা দিলে তা মিথ্যা ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছিল, মিথ্যা ঘোষণার কারণে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা ভিত্তিহীন। আদালত আবেদনকারীদের Form 6 জমা দেওয়ার অনুমতি দেয় এবং জানায়, আইন অনুযায়ী সেই আবেদনগুলি বিবেচনা করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, Form 6 নিয়ে কমিশনের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা আসলে শব্দের মারপ্যাঁচ। এর মাধ্যমে কোনও সমস্যারই সমাধান হচ্ছে না। SIR প্রক্রিয়ার ত্রুটি ঢাকতে যতই চেষ্টা করা হোক, তাতে লাভ হবে না বলেও দাবি করেছে বিরোধী দল। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকার SIR প্রক্রিয়াটিই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ লিখেছেন, 'Form 6 নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা আসলে ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা। যা প্রমাণ করছে, SIR প্রক্রিয়াটি কতটা ত্রুটিপূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছে। Form 6-এ স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আবেদনকারী প্রথমবারের জন্য ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করছেন কি না। অথচ কমিশন বলছে, SIR চলাকালীন যাঁরা নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করছেন, তাঁদেরও প্রথমবারের আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে আড়াল করার জন্য আরও একটি বিভ্রান্তিকর শব্দের খেলা। ভোটারদের দিয়ে প্রথমে মিথ্যা ঘোষণা করানো হচ্ছে, আর এখন সেই ঘোষণার কারণে আইনি পদক্ষেপ থেকে তাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।'