
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রকারী কেহর সিংয়ের ছেলে সতবন্ত সিংকে পঞ্জাব বিধানসভা ভোটের প্রার্থী করল আকালি দল ওয়ারিস পাঞ্জাব দে (ADWPD)। তাঁকে বাসি পাঠানা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। দলের জেলবন্দী সাংসদ অমৃতপাল সিংয়ের বাবা তারসেম সিং এই প্রার্থীপদ ঘোষণা করেন।
এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ফারিদকোটের সাংসদ সরবজিৎ সিং খালসার বোন অমৃত কৌর মালোয়া এর আগে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাসি পাঠানা কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
সতবন্ত সিংয়ের প্রার্থীপদ ঘোষণা করে তারসেম সিং বলেন, পন্থ এবং পঞ্জাবের জন্য আত্মত্যাগ করা পরিবারগুলিকে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্য, দলের রাজনীতি শুধুমাত্র নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের উপর নির্ভরশীল নয়। পন্থিক নীতি, পঞ্জাবের অধিকার এবং এই ধরনের আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই দলের রাজনীতির মূল ভিত্তি।
আকালি দল ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র তরফেও জানানো হয়েছে, তাদের রাজনীতি শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থকে কেন্দ্র করে নয়। পন্থিক নীতি, পঞ্জাবের অধিকার এবং শিখ সম্প্রদায়ের জন্য আত্মত্যাগ করা পরিবারগুলির সম্মান ও মর্যাদাই দলের রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি।
তারসেম সিং আরও বলেন, এই ধরনের পরিবারগুলিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে- এমন ধারণা ঠিক নয়। তাঁদের প্রার্থী করা প্রমাণ করে যে দল তাঁদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর পাশাপাশি তিনি শহিদ পরিবারের সদস্য সুখবিন্দর সিং আগওয়ানকে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডে নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এটিও এই পরিবারগুলির সদস্যদের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার উদাহরণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সতবন্ত সিংয়ের প্রার্থীপদ ঘোষণার সময় অমৃতসর প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন ফারিদকোটের সাংসদ সরবজিৎ সিং খালসা। তিনি আকালি দল ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং খাড়ুর সাহিবের সাংসদ অমৃতপাল সিংয়ের বাবা বাপু তারসেম সিংয়ের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন।
২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনার ফলে বাসি পাঠানা কেন্দ্রটি শুরুতেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এই কেন্দ্রে একাধিক পন্থিক নেতা নিজেদের প্রার্থীপদ দাবি করায় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর থাকবে। একই সঙ্গে এই ঘোষণা নির্বাচনের আগে নতুন করে গড়ে ওঠা পন্থিক সংগঠনগুলির রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসঙ্গত, ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ ইন্দিরা গান্ধীকে তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষী সতবন্ত সিং ও বিয়ন্ত সিং গুলি করে হত্যা করে। সেই হত্যার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করা হয় কেহর সিংকেও। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১২০-বি ধারায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দিল্লি হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা বহাল রাখে। ৬ জানুয়ারি ১৯৮৯ তিহাড় জেলে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।