
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশের অনেক অংশে আবহাওয়া অপ্রত্যাশিত হবে। কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বর্ষা বিদায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন দেখার বর্ষা শেষে অক্টোবর-নভেম্বর আবহাওয়া কোন দিকে মোড় নেয়।
বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া কোন পথে?
দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বিদায়ী রেখা বর্তমানে গুরুদাসপুর, চণ্ডিগড়, মুজফফরনগর, আলিগড়, ধোলপুর, উদয়পুর, দেসা এবং নালিয়ার উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। মৌসম ভবনের মতে, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পঞ্জাব, হরিয়ানাস রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশ, সমগ্র পশ্চিম হিমালয় অঞ্চল, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় এবং মহারাষ্ট্র থেকে বর্ষা বিদায় নেবে।
নিম্নচাপের গতিবিধি
মিজোরাম এবং উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্টি নিম্নচাপটি ১ অক্টোবরই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় ৭.৬ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ দিকে হেলে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘূর্ণাবর্ত অঞ্চল ওই এলাকাতেই থাকবে। উত্তর উপকূলীয় তামিলনাড় এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দেড় কিমি উচ্চতা পর্যন্ত ঘূর্ণাবর্ত স্থায়ী রয়েছে।
সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা
এদিকে একটি উত্তর দক্ষিণ নিম্নচাপ কর্নাটক থেকে তামিলনাড়ু হয়ে ০.৯ কিমি উচ্চতায় বিস্তৃত। এছাড়াও বিহার সংলগ্ন উত্তর পূর্ব অসম এবং দক্ষিণ পূর্ব উত্তরপ্রদেশেও ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এই ওয়েদার সিস্টেমগুলির প্রভাব উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব এবং উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে পড়বে।
বাংলায় কেমন থাকবে অক্টোবরের আবহাওয়া?
২-৭ অক্টোবর পর্যন্ত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়াও বইবে।
পুজোর আগেই বাংলা থেকে বিদায় নিতে পারে বর্ষা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্য থেকে মৌসুমি বায়ুর বিদায়পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। আপাতত দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে মত আবহাওয়াবিদদের। কলকাতা ও উপকূলবর্তী কিছু এলাকায় হাল্কা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বড় কোনও বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় আপাতত দুর্যোগের কোনও সম্ভাবনা নেই।
এল নিনোর প্রভাব
এদিকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো। এই পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকার আশঙ্কা।
মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে গোটা দেশ থেকেই বর্ষা বিদায় নেবে। নভেম্বর মাসে এল নিনোর তীব্রতা সবথেকে বেশি থাকবে। আগামী মার্চ পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি থাকবে। ভারত মহাসাগরের ডাইপোল পরিস্থিতি পজিটিভ হলে তা এল নিনোর নেতিবাচক দিক কিছুটা আটকাবে বলে মনে করছেন তিনি।