
ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতভেদ তৈরি হয়েছিল বলে খবর। বুধবার এনিয়ে ব্যাখ্যা দিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের বক্তব্য, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ, আইন এবং নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি মেনেই কাজ করে সংস্থা। লিখিত নোট, মন্তব্য, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা, সবই কমিশনের স্বাভাবিক কাজের প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানিয়েছে ECI।
কমিশনের দাবি, কোনও বিষয়ে খসড়া তৈরি হওয়ার সময় সদস্যেরা প্রশ্ন তুলতে পারেন, ব্যাখ্যা চাইতে পারেন বা নিজেদের পরামর্শ দিতে পারেন। এর উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা। কমিশনের বক্তব্য, যে কোনও প্রতিষ্ঠানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন মত ও মন্তব্য আসা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
আইন মেনেই সব সিদ্ধান্ত: ECI
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সমস্ত সরকারি নির্দেশ, সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জারি করা হয়। তিন নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি কমিশনের যে কোনও আধিকারিকও নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নতির জন্য পরামর্শ দিতে পারেন।
গত ১০ মাসের কিছু বাছাই করা অভ্যন্তরীণ মন্তব্যকে আলাদা করে দেখলে পুরো ছবিটা বোঝা যায় না বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জারি করা হয়েছে নির্দেশ এবং প্রায় ৪০টি নতুন ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজও। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে এই সমস্ত সিদ্ধান্ত পুরো কমিশনের সর্বসম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
বিহার থেকে বাংলায় ভোট
বিহার, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনগুলির কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, এই নির্বাচনগুলির সময় ব্যাপক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কাজে কমিশনের তরফে একাধিক অনুমোদন এবং নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীনও গোটা নির্বাচনী পরিকাঠামো আইন এবং কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করেছে। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, শুধুমাত্র কয়েকটি অভ্যন্তরীণ মন্তব্যের ভিত্তিতে তার সামগ্রিক কাজকর্মকে বিচার করা উচিত নয়।
ECINET নিয়ে প্রশ্নেরও জবাব কমিশনের
কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ECINET নিয়েও যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাব দিয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, কড়া ডেটা সিকিউরিটি প্রোটোকল মেনেই ECINET কাজ করে। অনুমতি ছাড়া যাতে কোনও তথ্যের পরিবর্তন বা কারচুপি করা না যায়, সেটাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। জাতীয়স্তরের ডেটা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সাধারণ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ হল আইটি সিকিউরিটি চেক এবং অডিট কন্ট্রোল।
কমিশনের বক্তব্য, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO)-এর মতো আইনসিদ্ধ আধিকারিকরাই আইন অনুযায়ী ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া পরামর্শের উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা।
শেষে কমিশন ফের জানিয়েছে, তাদের সমস্ত কাজ আইন এবং কমিশনের নির্ধারিত নির্দেশ মেনেই হয়েছে। নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।