Advertisement

লিভ ইন রিলেশন থেকে ডিভোর্স, অসমের মতো বাংলায় UCC এলেই যা যা বদল ঘটতে পারে...

ভ ইন রিলেশনে নয়া নিয়ম। এতদিন ইচ্ছেমতো লিভ ইন রিলেশন চালাতে পারতেন ছেলে-মেয়েরা। তারপর বিয়ে না-ও করতে পারতেন। কিন্তু UCC বিলে লিভ ইন রিলেশনে থাকতে হলে রেজিস্ট্রেশন আবশ্যিক করা হয়েছে। না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। 

UCC in AssamUCC in Assam
Aajtak Bangla
  • গুয়াহাটি,
  • 26 May 2026,
  • अपडेटेड 11:20 AM IST
  • লিভ ইন রিলেশনে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
  • বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কোনও বৈধ জীবনসঙ্গী জীবিত থাকা চলবে না
  • সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে?

বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি সঙ্কল্প পত্রে ঘোষণা করেছিল, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC লাগু করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে UCC রুখে দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। এবার বিজেপি সরকার চলে এসেছে। অতএব শীঘ্রই UCC লাগু হবে। ইতিমধ্যে অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার শপথগ্রহণের দু সপ্তাহের মধ্যে UCC বিল আনল। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতে আগেই লাগু হয়েছিল। এ বার অসমেও।

লিভ ইন রিলেশনে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

পশ্চিমবঙ্গেও যে UCC লাগু হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে ঘোষণা করেছিলেন। পাশের রাজ্য অসমে বিল পেশ করা হয়ে গেল। UCC বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, লিভ ইন রিলেশনে নয়া নিয়ম। এতদিন ইচ্ছেমতো লিভ ইন রিলেশন চালাতে পারতেন ছেলে-মেয়েরা। তারপর বিয়ে না-ও করতে পারতেন। কিন্তু UCC বিলে লিভ ইন রিলেশনে থাকতে হলে রেজিস্ট্রেশন আবশ্যিক করা হয়েছে। না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। 

সোমবার অসমে ১৫৪ পাতার UCC বিল বিধানসভায় পেশ করা হয়। অসমে বিরোধী দল কংগ্রেস তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, এই বিল পেশ করার আগে বিলটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।  বিলে বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য হল 'বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক বিষয়গুলির আইনকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা।' প্রস্তাবিত আইনটি সমগ্র অসমে কার্যকর হবে এবং অসমের যেসব বাসিন্দা রাজ্যের বাইরে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হবে। তবে ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী অসমের মোট জনসংখ্যার ১২.৪৪ শতাংশ থাকা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কোনও বৈধ জীবনসঙ্গী জীবিত থাকা চলবে না

গত কয়েক বছর ধরে অসমের NDA সরকার বিয়ে সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অসম প্রোহিবিটেশন অফ পলিগেমি অ্যাক্ট ২০২৫এবং Compulsory Registration of Muslim Marriages and Divorces Act 2024। প্রস্তাবিত UCC বিল সেই ধারাকেই আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। এই বিলে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পাত্রের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং পাত্রীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি, বিয়ের সময় স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কোনও বৈধ জীবনসঙ্গী জীবিত থাকা চলবে না। এছাড়া, পূর্ববর্তী কোনও বিয়ে যদি আদালতের ডিভোর্স ডিক্রি বা বাতিল ঘোষণার মাধ্যমে আইনি ভাবে শেষ না হয়ে থাকে, তবে নতুন করে বিয়ে করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

খসড়া বিলে বলা হয়েছে, যদি স্বামী বা স্ত্রীর কেউ একজন অসমের বাসিন্দা হন, সে ক্ষেত্রে প্রতিটি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতেই হবে। বিয়ের ৬০ দিনে মধ্যেই। আবার বিবাহবিচ্ছেদ হলেও রেজিস্ট্রেশন আবশ্যিক। এই ক্ষেত্রেও ডিভোর্সের ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। 

সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে?

বিলের সবচেয়ে বিস্তৃত অংশটি উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত। অসম সরকারের একটি নোটে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি বৈধ উইল না করে মারা যান, তাহলে তাঁর সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হবে, সেই বিষয়ে এই বিলে অভিন্ন ও লিঙ্গসমতার ভিত্তিতে নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। সেখানে Class-1 উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান এবং বাবা-মাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাজ্যের মধ্যে কোনও যুগল লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলে তাঁদের নির্দিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে সেই সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, অসমের বাসিন্দারা যদি রাজ্যের বাইরে থেকেও লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তাহলেও তাঁদের নিজ এলাকার সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে সেই সম্পর্ক রেজিস্টার করতে হবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement