Advertisement

বাতিল MiG-21 Fighter Jet নিয়ে এবার কী করবে ভারত? জানুন অজানা কাহিনি

আট আর নয়ের দশকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান বহরের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল মিগ-২১। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনা এক সময় এই বিমানকে নিজেদের কমব্যাট ব্যাকবোন বা যুদ্ধক্ষমতার মেরুদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

মিগ ২১ নিয়ে কী করবে বায়ুসেনামিগ ২১ নিয়ে কী করবে বায়ুসেনা
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 26 Sep 2026,
  • अपडेटेड 5:08 PM IST
  • আট আর নয়ের দশকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান বহরের প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল মিগ-২১।
  • যুদ্ধক্ষমতার মেরুদণ্ড ছিল মিগ-২১।

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) অন্যতম ভরসার যুদ্ধবিমান ছিল মিগ-২১। দেশের নিরাপত্তায় বার বার দায়িত্ব পালন করেছে এই যুদ্ধবিমান। চণ্ডীগড় বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে মিগ-২১-এর শেষ উড়ান ছিল এক বছর আগে। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থেকেই যায়, অবসরের পর এই যুদ্ধবিমানগুলির কী হয়? গত এক দশকে কয়েকশো মিগ-২১ ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে বিদায় নিয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২০২১ বাদ দিয়ে প্রায় প্রতি বছরই মিগ-২১-এর একটি করে স্কোয়াড্রন ধাপে ধাপে গিয়েছে অবসরে। তাহলে কি অবসরের পর মিগ-২১গুলি কোনও হ্যাঙ্গারে পড়ে থাকে? ইঞ্জিন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়? যুদ্ধবিমানের ভূমিকা থেকে সরিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ বিমানে পরিণত করা হয়? নাকি কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ফের কাজে লাগানোর জন্য রাখা হয়?

যুদ্ধবিমানের জীবন আবেগ দিয়ে চলে না। এক সময় অবসর নিতেই হয়। কয়েক দশক ধরে দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করা কোনও যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে অবসর মানেই যে একেবারে শেষ, তা নয়। ভারতীয় বায়ুসেনার এক সিনিয়র কর্তা জানিয়েছেন,'এক-দু’টি বিমান হেরিটেজ ফ্লাইটে রাখা হবে'। অর্থাৎ কয়েকটি মিগ-২১ যুদ্ধের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের সামরিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সংরক্ষণ করা হবে। ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে এটি নতুন কিছু নয়। টাইগার মথ, হার্ভার্ড এবং ডাকোটার মতো পুরনো বিমানও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এয়ার শোতে সেগুলির দেখা মেলে। দেশের বিমান চলাচলের ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসাবেই রাখা হয় সেগুলিকে।

মিগ-২১-এর মতো ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমানকে সামরিক ও যুদ্ধ-সংক্রান্ত সংগ্রহশালায় স্থায়ী প্রদর্শনী হিসেবে রাখা হয়। এক সময় যে বিমান শত্রুর কাছে আতঙ্কের কারণ ছিল, তার শেষ ঠিকানা হিসেবে এমন কোনও মিউজিয়ামই যেন যথেষ্ট মানানসই। 'গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রদর্শনী' বলতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেনাছাউনি বা গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলের বাইরে সংরক্ষিত যুদ্ধবিমানগুলির কথা বোঝানো হচ্ছে। যেমন, মুম্বইয়ের বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি সি হ্যারিয়ার যুদ্ধবিমান রয়েছে।

Advertisement

মিগ-২১ কি ভেঙে ফেলা হবে?

অবসর নেওয়া মিগ-২১ যুদ্ধবিমানগুলি শেষপর্যন্ত স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি বা ভেঙে ফেলা হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। 

সাধারণত কোনও সামরিক বিমানের আয়ু শেষ হলে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত নিয়ম মেনে বিমান বা তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়।

অন্তত একটি অবসরপ্রাপ্ত মিগ-২১-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছে। মিগ-২১-এর পুরনো একটি সংস্করণের বিমানকাঠামো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। বর্তমানে হরিয়ানার রোহতক-দিল্লি হাইওয়ের ধারে মহারাজা ধাবার বাইরে দু’টি ট্রাক্টরের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই যুদ্ধবিমান।

বায়ুসেনার ওই সিনিয়র কর্তা জানালেন,'অবসর নেওয়া বিমানগুলির যে সমস্ত যন্ত্রাংশ এখনও কাজে লাগানো সম্ভব, সেগুলি সংরক্ষণ করা হবে। বাকি অংশ নির্ধারিত নিয়মে ভাঙা হবে। কিছু সামগ্রী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিকে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হতে পারে'।

ভারতে অবসরপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা অবশ্য বিরল। বিদেশে অবশ্য সামরিক বিমানের অবসরের পরেও তাদের আলাদা দ্বিতীয় জীবন রয়েছে। যুদ্ধবিমান সংগ্রাহক ও যুদ্ধবিমানপ্রেমীরা কিনে নেন। কেউ সেগুলিকে বিমান চলাচলের ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করেন, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে উড়ন্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্কারও করা হয়।

তবে ভারতের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিমান ব্যক্তিগত মালিকানায় যাওয়ার ঘটনা এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল।

এখন মিগ-২১-এর বেশিরভাগই আর আকাশে উঠবে না। কয়েকটি বিমান হয়তো হেরিটেজ ফ্লাইটে উড়বে, কিছু জায়গা পাবে মিউজিয়ামে বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। বাকিগুলির যন্ত্রাংশ কাজে লাগানো হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ওয়ার্কহর্সের উড়ান থামলেও তার স্মৃতি এবং উত্তরাধিকার থেকে যাবে দেশের মাটিতেই।

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement