Advertisement

One Nation One Election: ভারতে 'এক দেশ এক নির্বাচন' চালু করা কতটা কঠিন-প্রভাব কী কী?

এক দেশ এক নির্বাচন। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বিজেপি চাইছে দেশে এই নীতি চালু করতে। দাবি, এতে সময় ও টাকা বাঁচবে। আপত্তি বিরোধীদের। কংগ্রেস-সহ প্রায় ১২টি দলের দাবি, এটি বাস্তবসম্মত নয়, অপ্রয়োজনীয়। বৃহস্পতিবার ইতিমধ্যেই এতে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। 

এক দেশ এক নির্বাচন, যা যা জানা প্রয়োজন।এক দেশ এক নির্বাচন, যা যা জানা প্রয়োজন।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 13 Dec 2024,
  • अपडेटेड 1:49 PM IST

এক দেশ এক নির্বাচন। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। বিজেপি চাইছে দেশে এই নীতি চালু করতে। দাবি, এতে সময় ও টাকা বাঁচবে। আপত্তি বিরোধীদের। কংগ্রেস-সহ প্রায় ১২টি দলের দাবি, এটি বাস্তবসম্মত নয়, অপ্রয়োজনীয়। বৃহস্পতিবার ইতিমধ্যেই এতে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। 

ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন কী?
সহজ ভাষায়, এর মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একইসঙ্গে করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এটি দুইটি স্তরে হবে। প্রথমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার ভোট হবে। তারপর স্থানীয় লোকাল বডি, অর্থাৎ, পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটির ভোট হবে। প্রথম ফেজের ১০০ দিনের মধ্যে এই সেকেন্ড ফেজের ভোট হবে। 

বর্তমানে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা-আলাদাভাবে হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও সম্পূর্ণ আলাদা হয়। 

এক দেশ এক নির্বাচনের ধারণা কোথা থেকে এল?
বিজেপি হঠাৎ করে এই বুদ্ধি বের করেছে, এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। আমাদের দেশে এটি নতুন কোনও কনসেপ্ট নয়। ১৯৫১-৫২ সালে যখন প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল, তখন একইসঙ্গে সমস্ত রাজ্য বিধানসভার ভোটগ্রহণও হয়েছিল। 

১৯৬৭ সাল পর্যন্ত কিন্তু এভাবেই চলত। কিন্তু অমীমাংসীত নির্বাচনের ফলাফল, বিভিন্ন জোটের জটিলতা ও নানা কারণে ব্যাপারটা ঘেঁটে যায়। ক্রমেই দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনীতির ট্রেন্ড অনেক আলাদা। কোথাও জোট সরকার রাজ্যে প্রশাসন সাজাতে গিয়ে অনেক সময় নিচ্ছে। কোথাও আবার ভোটে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি ঘিরে জটিলতা হচ্ছে। 

১৯৮৩ সালে নির্বাচন কমিশন একযোগে সমস্ত ভোটের সুপারিশ করেছিল। ২০০৩-এ ফের আরও একবার এই ব্যাপারটা উঠেছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী তৎকালীন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তার বেশি আর কিছু এগোয়নি। 

এরপর ২০১০ সালে বিজেপির লালকৃষ্ণ আদবাণী বলেছিলেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। 

এক দেশ এক নির্বাচন নিয়ে বছরের পর বছর নানা আলোচনা হয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বরাবরই এক দেশ এক নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ইস্তেহারেও এক দেশ এক নির্বাচনের জন্য প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। 

Advertisement

বিজেপি চাইছে এবার এই নীতি বাস্তবায়িত করতে। সেই কারণে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সভাপতিত্বে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছে তারা(২ সেপ্টেম্বর ২০২৩)। এই কমিটির রোডম্যাপ অনুযায়ী, এক দেশ এক নির্বাচন করতে হলে ১৮টি সংবিধানী সংশোধনের প্রয়োজন হবে। ফলে বিষয়টা মোটেও সহজ-সরল হবে না। 

এর মধ্যে ১৫টি সংবিধানী সংশোধনী এমনই, যেখানে এক দেশ এক নির্বাচনের সমর্থন নেই। ৫টি আর্টিকেল/অধ্যায়েরও অ্যামেন্ডমেন্ট বা সংশোধনী করতে হবে। প্রতিটি দেশ এবং জাতীয় দলকে এই সংশোধনীতে সায় দিতে হবে। ফলে বিজেপির পক্ষে বিষয়টা কতটা কঠিন অনুমেয়। 

কোনও সংবিধানী সংশোধনীর জন্য সংসদে মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশকে উপস্থিত থাকতে হয়। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও রাজ্যগুলিকে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাশের পর সেটাকে দেশের অন্তত অর্ধেক সংখ্যক রাজ্যকে সমর্থন করতে হবে। তাদের নিজেদের বিধানসভায় রেজোলিউশনের মাধ্যমে এটাতে সমর্থন জানাতে হবে। 

এখনও পর্যন্ত কোন কোন দল সমর্থন করছে?
কোবিন্দ প্যানেলের মতে, এখনও পর্যন্ত দেশের ৬৭টি রাজনৈতিক দলকে এই বিষয়ে সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৭টি দল জবাব দিয়েছে। ৩২ টি দল সমর্থন জানয়েছে। ১৫টি দল এর বিরোধিতা করেছে।

বিজেপি ছাড়াও শিবসেনা, জেডিইউ, আকালি দল, এআইএডিএমকে, বিজেডি এক দেশ এক নির্বাচনের নীতিতে সমর্থন জানিয়েছে।  এদিকে এর বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি। 

 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement