
দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ। ককরোচ জনতা পার্টি। অভিজিৎ দীপকে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম খুললেই এই সব শব্দ। ১০ অক্টোবর আটক হওয়ার পর আবারও খবরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। রবিবার মুক্তি পান। অনেকেই জানেন না এই অভিজিৎ দীপকে কে? তাঁর রাজনীতিক পরিচয় বা কী? কতদূর পড়াশুনো করেছেন? অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সঙ্গে তাঁর কী যোগ?
শিক্ষাজগৎ থেকেই রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন দীপকে। প্রথমে ইঞ্জিনিয়ারিং, পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কী পড়াশোনা করেছেন অভিজিৎ? জেনে নেওয়া যাক তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে।
মরাঠি স্কুল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং
১৯৯৬ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম দীপকের। দশম শ্রেণি পর্যন্ত মরাঠি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর উচ্চমাধ্যমিকে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি হন। সিজেপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন দীপকে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং অঙ্ক নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। এর পর ঔরঙ্গাবাদের গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন দিপকে। ২০১৮ সালে স্নাতক হন। কলেজে পড়ার সময় বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ছাত্র সংসদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। পাশাপাশি, টিয়ার-২ ইঞ্জিনিয়ার নামে একটি ব্লগও লিখতেন। আইআইটি এবং এনআইটির বাইরে থাকা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার কথা উঠে আসত সেই ব্লগে।
৪ বছর সফরওয়্যারে কর্মরত
স্নাতক হওয়ার পর পুণের দুটি স্টার্টআপ সংস্থায় ব্যাকঅ্যান্ড ডেভেলপার হিসাবে কাজ করেন। প্রায় চার বছর সফটওয়্যারের কাজ করেছিলেন।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা
২০২৩ সালে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেডেরিক এস পার্ডি স্কুল অফ গ্লোবাল স্টাডিজে ভর্তির সুযোগ পান দীপকে। সেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন বলে দাবি সিজেপির। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতি তাঁর পড়াশোনার অন্যতম বিষয়। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনা দীপকের শিক্ষাগত পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তাঁর পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কোনও খবর মেলেনি। অন্যদিকে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ও তাঁর বর্তমান ভর্তি-সংক্রান্ত অবস্থা বা শিক্ষাগত বিষয় নিয়ে কোনও তথ্য দেয়নি।
কীভাবে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু?
শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ছাত্রছাত্রীদের নানা সমস্যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব দীপকে। আম আদমি পার্টির সঙ্গে কাজ করার পর ২০২৬ সালের মে মাসে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন। বেকার যুবকদের নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক উদ্যোগ নতুন গতি পায়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিজিৎ দীপকে।