
বর্তমানে তিনি ভারতের রাজনীতির সবথেকে চর্চিত ব্যক্তি। এসআইআর সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে একদিকে তাঁর পদত্যাগ চাইছে বিরোধীরা। অপরদিকে তাঁর হয়ে ব্যাট ধরেছে স্বয়ং শাসক দল। তিনি ঠিক পথে নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন বলে দাবি করছে বিজেপি। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গিয়েছেন, ঠিক কার কথা বলছি। হ্যাঁ, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েই কথা হচ্ছে। তবে এত চর্চায় থাকলেও তাঁকে নিয়ে মানুষের প্রশ্নেরই শেষ নেই। অনেকরই জিজ্ঞাসা, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ঠিক কে? তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কী? কীভাবে তিনি চর্চায় উঠে এলেন? তাঁর উত্থান কীভাবে? আসুন সবটা জেনে নেওয়া যাক।
২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জ্ঞানেশ কুমার। ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। কানপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা আইআইটি-এর প্রাক্তনী। তাই আসুন ঝটপট তাঁর পড়াশোনা এবং কেরিয়ারের উত্থানের জার্নিটা জেনে নেওয়া যাক।
উত্তরপ্রদেশ থেকে আইআইটি কানপুরে পৌঁছে যান জ্ঞানেশ
জ্ঞানেশ কুমারের জন্ম ১৯৬৪ সালে জন্ম। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর, লখনউ এবং কানপুরে পড়াশোনা করেছেন তিনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালে হাইস্কুল এবং ১৯৮১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা (ক্লাস ১২ পরীক্ষা) দেন জ্ঞানেশ। সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তরপ্রদেশ বোর্ডে ফার্স্ট হয়েছিলেন।
নিজের জীবনে বারবার লখনউয়ের সঙ্গে তাঁর জার্নির কথা বলে গিয়েছেন জ্ঞানেশ। তিনি জানান, এই শহরেই পড়াশোনা করেছিলেন তিনি।
লখনউ থেকে একটা বড় লাফ দেন জ্ঞানেশ। তিনি কানপুরের ইন্ডিয়ান আইআইটি-তে সুযোগ পান। সেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক হয়েছিলেন।
১৯৮৫ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করার পরই নতুন টার্গেট সেট করেন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন জ্ঞানেশ।
তবে শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েননি তিনি। আইআইটি কানপুরের সরকারি প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে, আইসিএফএআই থেকে বিজনেস ফিনান্স এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট থেকে এনভায়রোনমেন্টাল ইকোনমিক্স নিয়েও পড়াশোনা করেছেন তিনি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে আইআইটি কানপুরের ৬৬তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে 'ডিস্টিংগুইশড অ্যালুমনাই অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা হয়। ১৯৮৯ সালে চালু হওয়া এই সম্মান তাঁদের দেওয়া হয়, যাঁরা নিজেদের কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। সেই সঙ্গে সমাজ ও দেশের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
কেরিয়ারে উত্থান কীভাবে?
১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার। তিনি কেরল ক্যাডারে যোগ দেন।
কেরলে কর্মরত থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমার কোচিন কর্পোরেশনের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এরনাকুলামের জেলাশাসক, গোশ্রী আইল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সচিব, তিরুবনন্তপুরম এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং নয়াদিল্লিতে কেরল হাউসের রেসিডেন্ট কমিশনারের পদ সামলাছেন।
পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি কাজ করেছেন। এই সময়ই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে যুগ্মসচিব এবং অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর কাজের সময় জম্মু ও কাশ্মীর এবং অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসর নেন জ্ঞানেশ কুমার। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ তাঁকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সেই পদে থাকাকালীন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নেন।
এরপর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ভারতের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জ্ঞানেশ। তিনি আসার পরই দেশে এসআইআর হয়। আর সেটা নিয়েই এখন বিতর্কে মুখ্য নিবার্চন কমিশনার। তাঁর ইস্তফা চাইছে বিরোধীরা। উত্তপ্ত হয়েছে রাজধানী দিল্লি। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়।