
নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের ফাটল কি ক্রমশ চওড়া হচ্ছে? সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে প্রকাশ্যে আসা একটি নতুন রিপোর্টে তুঙ্গে রাজনীতি। এই বিতর্কের জেরে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। কে এই জ্ঞানেশ কুমার? কেনই বা তাঁর প্রশাসনিক কেরিয়ার এতটা আলোচিত?
ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাজের ধরন এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে দেওয়া হয়েছে ব্যাখ্যাও। কমিশনের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় লিখিত মন্তব্য, মতপার্থক্য এবং পরামর্শ স্বাভাবিক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
জ্ঞানেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা
১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস জ্ঞানেশ কুমার। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব নেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম হয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে আইআইটি কানপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে B.Tech করেন জ্ঞানেশ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর ICFAI থেকে বিজনেস ফিনান্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের HIID থেকে পরিবেশ অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন।
৩৭০ থেকে রামমন্দির, প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
জ্ঞানেশ কুমারের প্রশাসনিক কেরিয়ার বরাবরই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর দায়িত্বে পরিপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেরল সরকারের বিভিন্ন পদে জেলাশাসক থেকে সচিব স্তর পর্যন্ত কাজ করেছেন। তাঁর কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ঘটনাও রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে কাশ্মীর বিভাগের যুগ্মসচিব ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। ২০১৯ সালের অগাস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের ঐতিহাসিক বিলের খসড়া তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি।
রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে থাকাকালীন অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের প্রক্রিয়াতেও জড়িত ছিলেন।
কমিশনে কি সত্যিই সংঘাত, নাকি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক, প্রশাসনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিচিত জ্ঞানেশ কুমার। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানেরই দুই সদস্যের আপত্তির মুখে। এক দিকে বিরোধী দলগুলি দুই নির্বাচন কমিশনারের ১৪টি আপত্তিকে কমিশনের অন্দরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত, বহু সদস্যের কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন মত থাকা অস্বাভাবিক নয়। বরং তা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আলোচনার স্বাভাবিক অংশ।
এখন দেখার,গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অন্দরে যে মতপার্থক্যের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে, তা আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়।