
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের পছন্দের মুখ কে? আর এই প্রশ্নের উত্তর মিলল India Today-CVoter Mood of the Nation (MOTN) সমীক্ষায়। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নরেন্দ্র মোদী এবং রাহুল গান্ধীর পর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সি জোসেফ বিজয়। আর ঠিক তারপরেই রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
টিভিকে-এর প্রতিষ্ঠাতা বিজয়কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেছেন ৯.২ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে এই লিস্টে প্রথমে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ৪৮.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। আর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ২৭.১ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তামিলনাড়ুতে টিভিকে সরকারের সমর্থনে রয়েছে কংগ্রেস। তাই প্রধানমন্ত্রী পদের পছন্দ হিসেবে বিজয়ের উত্থান কিছুটা হলেও রাহুল গান্ধীর ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজয়ের পিছনে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (২ শতাংশ), সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (১.৭ শতাংশ), কক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে (১.৩ শতাংশ) এবং আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল (১.২ শতাংশ)।
কীভাবে সমীক্ষা হল?
ছয় মাস অন্তর প্রকাশিত একটি জনমত সমীক্ষা হল Mood of the Nation। এটি প্রায় দুই দশক ধরে India Today Group-এর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের অগস্টের মাসের সংস্করণটি CVoter পরিচালনা করেছে। ১ জুলাই থেকে ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত সরাসরি ২৫,১৮৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গত ছয় মাসে CVoter-এর নিয়মিত ট্র্যাকিংয়ের অংশ হিসেবে নেওয়া আরও ৯১,৭৯৫টি সাক্ষাৎকারের তথ্যও এই সমীক্ষার ফলাফল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিরোধী জোটের নেতৃত্বেও বিজয়কে পছন্দ
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের উত্থানেই সমীক্ষার চমক শেষ নয়। বর্তমান বিরোধী নেতাদের মধ্যে কে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এই প্রশ্নেও বিজয় উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন।
এই প্রশ্নে ১২.২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বিজয়। তাঁর আগে রয়েছেন রাহুল গান্ধী, যিনি ২৯ শতাংশ ভোট নিয়ে শীর্ষে। বিজয়ের পর রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এরপর যথাক্রমে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৭.৫ শতাংশ এবং অখিলেশ যাদব ৬.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
সমীক্ষার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, প্রথমবার সরকার পরিচালনার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিজয় নিজের রাজনৈতিক পরিচিতিকে তামিলনাড়ুর গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি জাতীয় স্তরে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন। ওদিকে, ২০২৬ ভোটে হারের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই লিস্টে উপস্থিতি ভীষণরকম তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলনেত্রী এখনও প্রাসঙ্গিক।
মাথায় রাখতে হবে, লোকসভা নির্বাচনের এখনও তিন বছর দেরি রয়েছে। তাই এখনই নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে India Today-CVoter-এর এই সমীক্ষা একটা চিত্র অবশ্যই সামনে তুলে ধরেছে।