
'বাংলা বারবার নিজেকে ও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলা প্রগতিশীল চিন্তাকে রক্ষা করেছে। বাংলা গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে। আজ বাংলার দায়িত্ব শুধু নিজেকে নয়, প্রগতিশীল চিন্তাকে নয়, নিজের মাটিকে নয়, বরং গোটা দেশ ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।', যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে ঠিক এমন কথাই বললেন ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।
সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন নেহা। তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনেও যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ। তারপরও বসে থাকেননি নেহা। চলে এসেছেন কলকাতা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর মতে, ভারতকে বাঁচাতে পারে পশ্চিমবঙ্গই।
আর নেহার মুখে বাংলার গুণগান শুনে অবাক হবেন না। তাঁর সঙ্গে বাংলার যোগ অনেক পুরনো। তাই আর সময় নষ্ট না করে জেনে নিন, নেহা বোরা কে? কীভাবে তিনি উঠে এলেন লাইমলাইটে?
নেহা বোরা কে?
উত্তরাখণ্ডের খাটিমার বাসিন্দা নেহা। তাঁর বাবা সেনায় কর্মরত ছিলেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ। তারপর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেছেন। এখন তিনি দিল্লিতে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন।
জানা গিয়েছে, বাংলার সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক রয়েছে নেহার। বাবা সেনায় কাজ করায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন নেহা। সেই সূত্রে বেশ কয়েক বছর উত্তরবঙ্গে ছিলেন তিনি। শিলিগুড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন বলেও জানা যায়।
কীভাবে লাইমলাইটে?
ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। বর্তমানে তিনি লাইমলাইটে রয়েছেন। তাঁর বিদ্রোহী কথাবার্তা ও প্রতিবাদী আচরণ প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছে। নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে তাঁর ভিডিও।
এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে লাইমলাইটে উঠে এলেন নেহা? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
আসলে ২০২৬ সালের দিল্লির যন্তর মন্তরের নিট প্রশ্নফাঁস বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি পেয়েছেন। ওই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছিল। আর সেই আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তিনি রাজধানীতে ২৩ দিনের অনশনেও অংশ নেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়।
এরপর 'সংসদ চলো' মিছিলের সময় ছাত্র ও যুবকদের উপর পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানান তিনি। এছাড়া শিক্ষার বেসরকারিকরণ থেকে শুরু গণপিটুনি, পেপার ফাঁস, বিলকিস বানোর জন্য বিচার, গাজা যুদ্ধ এবং গাজার মানবিক সঙ্কট সব বিভিন্ন বিষয়ে সরব হয়েছেন নেহা বোরা।
৭ অগস্ট ২০২৬-এ তিনি ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনেও যোগ দেন। এরপর চলতি মাসে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এভাবেই তিনি দেশের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ হয়ে উঠেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।