
Neha Bora Father: বয়স অল্পই। কিন্তু আন্দোলনের রাজনীতিতে তিনি এখন জাতীয় স্তরে পরিচিত মুখ। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (AISA) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা। হাজার হাজার অনুগামী, সোশ্যাল মিডিয়া ফেম। কিন্তু সেই নেহার সঙ্গেই তাঁর বাবা কথা বলেন না। নেহার বাবা একজন সেনা আধিকারিক। মোটেও বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। আর সেই মতাদর্শের লড়াই এতটাই তীব্র যে, গত ১০ বছর ধরে নিজের মেয়ের সঙ্গে একটি বাক্যও ব্যয় করেননি তাঁর বাবা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেহা নিজেই এ কথা জানান। নেহার বলেন, 'বাবা যখন প্রথম জানতে পারেন আমি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, উনি তখন সেনায় ছিলেন। আমাকে প্রথমেই উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমাদের লোকজনই আমাদের সেনাকর্মীদের মারে, তুমি ওদের সঙ্গে কীভাবে জড়িত হতে পার?' সেই থেকে আজ ১০ বছর কেটে গিয়েছে, বাবা আমার সঙ্গে কোনও কথা বলেন না।'
কে এই নেহা বোরা?
নেহা বোরার জন্ম উত্তরাখণ্ডে। তবে তাঁর শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে পশ্চিমবঙ্গে। পর পর বেশ নামীদামী স্কুলে পড়েছেন। শিলিগুড়ির দিল্লি পাবলিক স্কুল (DPS) থেকে প্রাইমারি। তারপর বেঙ্গালুরুর আর্মি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা। ছোটবেলা থেকেই নাটক ও সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক ছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। ড. ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন। বর্তমানে তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) পিএইচডি করছেন।
অনশন
শিক্ষার অধিকার, ফি বৃদ্ধি ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেমে বারবার শিরোনামে এসেছেন নেহা। যন্তর মন্তরে NEET প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে টানা ২৩ দিন অনশন করেন। সেই সময় রাহুল গান্ধী, অভিনেত্রী শাবানা আজমি থেকে শুরু করে সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদও তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসেন।
তবে বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে JPSC-JSSC পরীক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সময় তাঁর মুখে কালি ছুড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগেও নানা রাজনৈতিক স্লোগান ও কট্টর বামপন্থী অবস্থানের কারণে সমালোচকদের নিশানায় পড়তে হয়েছে তাঁকে।
বাবার সঙ্গে এক দশকের বিচ্ছেদ সত্ত্বেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এক চুলও সরতে নারাজ নেহা বোরা। সেনা পরিবারের মেয়ে হয়েও কীভাবে বামপন্থী রাজনীতির মুখ হয়ে উঠলেন, তা নিয়েই এখন সরগরম রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যম।