
এখন গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অনলাইনে তৈরি হয় এই পার্টি। তারপর এই দলের আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আর বর্তমানে এই দলটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাইছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার পক্ষেও সওয়াল করেছে তারা। আর এই দলেরই অন্যতম কনভেনর ও মুখপাত্র হলেন সৌরভ দাস। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও আশুতোষ রাঙ্কার বিশ্বস্ত সঙ্গী।
ইতিমধ্যেই সৌরভ দাসের বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তাই দিন দিন বাড়ছে জনপ্রিয়তাও। তারপরও অনেকেই জানতে চাইছেন, কে এই সৌরভ দাস? তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? কীভাবে তিনি সিজেপি-এর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন? তাঁর ইনস্টাগ্রাম, টুইটারে ফলোয়ার্স কত? আর সবটা নিয়েই আলোচনা হল নিবন্ধটিতে।
সাংবাদিকতার পড়ুয়া থেকে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট
সৌরভ দাসের LinkedIn প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি একজন ইনভেস্টিগেভিট জার্নালিস্ট। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
কলেজে পড়ার সময়ই সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সৌরভ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের নিউজ ডেস্কে ইন্টার্নশিপ করেছিলেন। এভাবেই রিয়েল ওয়ার্ল্ড সাংবাদিকতার পাঠ পেয়েছেন।
গ্র্যাজুয়েশন পাশ করার পর ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পোস্ট ভিডিও প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করেন সৌরভ। এরপর ২০২২ সালের মে মাসে GLG-তে কন্টেন্ট অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত কাজ করেছেন।
যদিও শুধু কোনও ইনস্টিটিউশনের হয়ে কাজ নয়, সেই সঙ্গে নিজের মতো করেও কাজ করে গিয়েছেন তিনি। ২০২০ সাল থেকেই স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে আসছেন সৌরভ।
নিজের ওয়েবসাইট sauravdas.in-এ বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, মতামত এবং ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করে এসেছেন। তাঁর LinkedIn প্রোফাইলেও বিভিন্ন সময়ে লেখা প্রতিবেদন ও কলামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
RTI অ্যাক্টিভিস্ট থেকে ইনভেস্টিগেটিজ জার্নালিজম, কী কী কাজ করেছেন সৌরভ?
সৌরভের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে তাঁর করা একাধিক RTI-সংক্রান্ত কাজের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত ইনভেস্টিগেটিভ আর্টিকল।
তাঁর প্রকাশিত কাজের মধ্যে রয়েছে 'পানামা পেপার্সে অপ্রকাশিত আয়ের পরিমাণ ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে: আয়কর দফতর', 'পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনা হয়েছে কি না, RTI-তে সেই প্রশ্নের জবাবে কোনও তথ্য দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক' এবং 'উত্তরপ্রদেশে কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যায় অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে'—এই ধরনের প্রতিবেদন। চলতি বছরে তিনি সিজেপি-র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারপর ব্যাপক গতিতে উত্থান হয় তাঁর।
CJP আন্দোলনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন সৌরভ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুগামীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে।
বর্তমানে Instagram-এ তাঁর ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১.৩ মিলিয়ন। অন্যদিকে, X-এ তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ২.৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাংবাদিকতা, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতির সুবাদে সৌরভ দাস এখন সিজেপি-র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ।