
কথা ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ হল না। উল্টে শনিবার দিল্লির বিমানবন্দরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দিল্লিতে ল্যান্ড করতেই আটক করে পুলিশ। বিমানটি নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিতরে ঢুকে পড়েন পুলিশকর্মীরা। আর উল্লেখযোগ্যভাবে অভিজিৎ ও তাঁর সঙ্গীদের আটক করতে পুরুষ পুলিশকর্মীদের বদলে মহিলা পুলিশকর্মী পাঠানো হয়। এখন প্রশ্ন হল, কেন মহিলা পুলিশকর্মীকেই বেছে নিল দিল্লি পুলিশ?
মাথায় রাখতে হবে, মহিলা পুলিশকর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু দিল্লি পুলিশ হয়তো আশঙ্কা করেছিল, পুরুষ পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর বিমানের মধ্যে ছোট করিডরে ধাক্কাধাক্কি থেকেও বড় ধরনের ঝামেলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই হয়তো মহিলাদের পাঠানো হয়েছে। তারা হয়তো চেয়েছে যাতে বেশি উত্তেজনা না ছাড়ে।
আর দিল্লি পুলিশের এই প্ল্যানিং যে কাজ করেছে, সেটা আপাতত পরিষ্কার। প্লেনের ভিতরে কয়েকবার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ছাড়া শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। বরং ওই মহিলা পুলিশকর্মীরা অভিজিৎ দীপকে ও সিজেপির অন্য নেতাদের আটক করে ফেলে।
২০ জুলাইয়ের ঘটনার স্মৃতি টাটকা
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে উত্তাল হয়েছিল দিল্লি। গত ২০ জুলাই সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে এগোচ্ছিল ছাত্রছাত্রীরা। সেই সময় হিংসা ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই ঘটনার পর সিজেপির অভিযোগ ছিল, পুরুষ পুলিশকর্মীরা তরুণীদের মারধর করেছেন।
সিজেপির দাবি, মাত্র ১২ বছর বয়সি মেয়েদেরও মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই দানা বাঁধে বিতর্ক। করণ, এই সংগঠনের সমর্থকদের একটা বড় অংশই তরুণ-তরুণী এবং জেন জি প্রজন্মের।
আর সেই অভিযোগ মাথায় রেখেছে দিল্লি পুলিশ। তারা মহিলা পুলিশকর্মীদের দিয়ে নেতাদের আটক করিয়েছে। এর ফলে বিতর্কের আশঙ্কা কমেছে। খুব সহজেই আটক করা গিয়েছে সিজেপি নেতৃত্বকে।
কীভাবে আটক করা হল অভিজিৎ ও সিজেপির নেতাদের?
সে এক নাটকীয় বিষয়। দিল্লি বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানে পুলিশকর্মীরা উঠে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে জানলার ধারের আসনে বসে থাকা অভিজিৎ দীপকে ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করেন। মাঝের আসনে বসেছিলেন সৌরভ দাস। তাঁর পাশের আসনে ছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা।
পুলিশকর্মীদের দেখতে পেয়েই সিজেপির নেতারা 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' এবং 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান দিতে শুরু করেন।
বিমানের ভিতর থেকে সামনে আসা ভিডিওয় দেখা যায়, মহিলা পুলিশকর্মীরা সিজেপির নেতাদের ঘিরে রেখেছেন। আটক করার পদ্ধতি নিয়ে পুলিশকর্মীদের প্রশ্ন করতে দেখা যায় অভিজিৎকে।
এরপর অভিজিৎ পুলিশকর্মীদের বলেন, 'আমি গ্রেফতার হতে এসেছি, আমাকে গ্রেফতার করুন।'
পুরো সময়টাই মহিলা পুলিশকর্মীদের অভিজিৎ ও অন্য নেতাদের সহযোগিতা করার আবেদন জানাতে দেখা যায়। তারপরই তাঁদের আটক করা হয়।