
ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সীমান্তে বেড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। অনুপ্রবেশ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায়। তবে পূর্ব সীমান্তে অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্তে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্ট ফেন্সিং ছাড়া নিরাপত্তা পুরোপুরি জোরদার করা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। অতীতে এি সীমান্তের খোলা জায়গা দিয়ে সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারিদের অনুপ্রবেশ একটি সাধারণ ঘটনা ছিল। ১৯৯০ এবং ২০০০ সালের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীর, পঞ্জাব এবং রাজস্থান অঞ্চলে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল।
২০১০ সালের দিকে ভারত সরকার সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF)-এর সহায়তায় পাকিস্তান সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ করে। বর্তমানে বেশিরভাগ এলাকায় উঁচু, মজবুত কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার উপর এই বেড়ার ইতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট ভাবে দৃশ্যমান। অনুপ্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
যেখানে আগে প্রতি বছর শত শত অনুপ্রবেশের চেষ্টা হতো, এখন তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি আলো, ক্যামেরা এবং টহল বাড়ানো হয়েছে। যা BSF-এর জন্য নজরদারি বজায় রাখা সহজ করে দিয়েছে। নিরাপত্তা এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ না হলেও সার্বিক ভাবে এই বেড়া পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়া প্রয়োজন কেন?
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একট সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের উপর দিয়ে গিয়েছে। এখানকার ভূমি মূলত সমতল এবং এতে নদী, ঝর্না ও ঘন জঙ্গল রয়েছে। এই কারণে বেড়া দেওয়া কঠিন এবং ব্যয়বহুল। এখনও অনেক এলাকা বেড়াবিহীন রয়ে গিয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর প্রধান চ্যালেঞ্জগুলি হল অবৈধ অভিবাসন, গরু পাচার, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং মাঝেমধ্যে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ভাষাগত ও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে সীমান্ত পারাপার তুলনামূলক ভাবে সহজ। এই কারণেই নিরাপত্তা বাহিনী দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকে।
স্মার্ট ফেন্সিং কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ সীমান্তের অনন্য ভৌগলিক অবস্থার কারণে প্রচলিত বেড়ার পরিবর্তনে স্মার্ট বেড়া প্রয়োজন। স্মার্ট বেড়ায় সেন্সর, CCTV ক্যামেরা, ইনফ্রেরেড ডিটেক্টর, ড্রোন নজরদারি, AI ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং রিয়েল টাইম অ্যালার্ট সিস্টেম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
এই ব্যবস্থাটি রাতেও কাজ করে। এটি সঙ্গে সঙ্গে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠায়। এটি সেনার জীবন বাঁচায় এবং ছোটখাটো ঘটনাকে বড় আকার ধারণ করা থেকে প্রতিরোধ করতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে কিছু এলাকায় স্মাপ্ট বেড়া স্থাপন করেছে। এখন এটিকে সমগ্র সীমান্ত জুড়ে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্মার্ট ফেন্সিং হল একটি আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা প্রচলিত তারের বেড়ার চেয়ে অনেক উন্নত। এটি সাধারণ বেড়ার সঙ্গে সেন্সর, ক্যামেরা, AI এবং রিয়েল টাইম মনিটরিং সিস্টেমকে একত্রিত করে সীমান্ত বরাবর যে কোনও কার্যকলাপ তাৎক্ষণিক ভাবে শনাক্ত করে। এই প্রযুক্তি বিশেষ করে দীর্ঘ এবং দুর্গম সীমান্তে অত্যন্ত উপযোগী।